মাধবপুরে পেট্রল-অকটেন সংকট, দুর্ভোগে চালকেরা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে গত শুক্রবার থেকে অন্যতম প্রধান সুশান ফিলিং স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন। পাম্পটিতে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেল পাওয়া গেলেও পেট্রল ও অকটেন না থাকায় অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের আল আমিন ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
পেট্রল ও অকটেনের সংকটের সুযোগে স্থানীয় কিছু দোকানে বোতলে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকেরা। তাদের অভিযোগ, এসব দোকানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কিছু দোকানে নিম্নমানের বা ভেজাল মিশ্রিত তেল বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এসব জ্বালানি ব্যবহারের পর মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার দাবি করেছেন চালকেরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দোকানিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, সুশান ফিলিং স্টেশনে মাসের ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত কোনো না কোনো ধরনের জ্বালানি তেলের সংকট থাকে। মাধবপুরের মতো ব্যস্ত এলাকায় বিকল্প ফিলিং স্টেশন কম থাকায় একটি পাম্পে পেট্রল বা অকটেনের সরবরাহ ব্যাহত হলে এর প্রভাব পড়ে স্থানীয় পরিবহন ও সাধারণ মানুষের ওপর।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন চালকের অভিযোগ, মাধবপুর ও এর আশপাশের কিছু ফিলিং স্টেশনেও মাপে কম জ্বালানি দেওয়া হয়। এ কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত পরিমাপ যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
জ্বালানি সরবরাহে সমস্যার কথা স্বীকার করে সুশান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার রুহুল বলেন, স্টোরেজ ট্যাংকের পাইপলাইনে ফাটলসহ কিছু কারিগরি সমস্যা ছিল। চলতি মাসে নতুন করে পাইপ স্থাপনসহ বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় সব সমস্যার সমাধান হয়েছে। এ সপ্তাহ থেকেই স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
অকটেন সরবরাহের বিষয়ে ম্যানেজার রুহুল বলেন, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন মজুদ রয়েছে। কিন্তু মেশিনে ত্রুটি থাকায় তা বিক্রি করা যাচ্ছে না। অকটেন সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হাইটেক মেশিনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছিল না। গত ২৬ সেপ্টেম্বর যন্ত্রাংশ হাতে পাওয়া গেছে। ইঞ্জিনিয়ার এসে মেশিনটি ঠিক করলে এ সপ্তাহ থেকেই অকটেন সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, স্টোরেজ ট্যাংকের নিচে জমে থাকা ময়লা ও গাদ পরিষ্কার করা হয়েছে। পাইপলাইনসহ অন্যান্য কারিগরি সমস্যাও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে।
স্থানীয় চালকদের দাবি, মাধবপুরে পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সঠিক পরিমাপে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত তদারক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খুচরা দোকানে জ্বালানি বিক্রি, অতিরিক্ত দাম ও ভেজাল তেলের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভোরের আকাশ/জেআ