শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মোহাম্মদ উল্লাহ্ (৪২) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ উল্লাহ্ দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শিবালয়ের নয়াকান্দি জামিয়া ইসলামিয়া উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং সেখানেই অবস্থান করে পড়াশোনা করছিল। রোববার (২৪ আগস্ট) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষক মোহাম্মদ উল্লাহ্ তাকে ডেকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পায়ুপথে ধর্ষণ করে এবং কাউকে জানালে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। সেই সঙ্গে খুন করার ভয়ও দেখায়।
পরদিন সোমবার ভয়ে কিছু না বলে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে আসে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তার মা কারণ জানতে চাইলে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, “আমার স্ত্রী থেকে বিষয়টি জানার পর আমি দ্রুত ঢাকা থেকে বাড়িতে আসি। স্থানীয় লোকজনকে জানিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষককে আটক করি। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে তাকে হেফাজতে নেয়। এর পর আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রায় ৬ মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে আমার ছেলেকে জোরপূর্বক পায়ুপথে ধর্ষণ করে আসছিল ওই শিক্ষক। ভয়ে আমার ছেলে এতদিন কাউকে কিছু বলেনি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, “ভুক্তভোগীর পরিবার মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে আমাদের খবর দেয়। পরে আমরা তাকে থানায় নিয়ে আসি। শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
ভোরের আকাশ/জাআ