ঢাকায় বাসে ইসমাইল হত্যার বিচার দাবিতে জামালপুরে বিক্ষোভ

ঢাকায় বাসে ইসমাইল হোসেনকে নির্মম ভাবে হত্যার ঘটনার অভিযোগে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের তিন শ্রমিকের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার ( ১০ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত এলাকায় হত্যা মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে মানববন্ধন করেছেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন , নিহত ইসমাইলের স্ত্রী হাসনা বেগম নিহতের ছেলে হাসান মিয়া, রেজাউল করিম হাবু, এনসিপি নেতা আবির সৌরভ হাসানসহ আরো অনেকেই।
চলন্ত বাসে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ ফেলে দেওয়ার ঘটনার অভিযোগে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের তিন পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
জমি বিক্রির টাকা হাতিয়ে নেয়ার কৌশলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃতরা। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
উল্লেখ্য যে, পুলিশ ও ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে ইসমাইল হোসেন জমি বিক্রির টাকা নিয়ে মেয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল মেয়ের বিয়ে দেওয়া এবং কিছু পাওনাদার ও ধার-দেনা পরিশোধ করা।
পথিমধ্যে বাসের ভাড়া পরিশোধ করার সময় সুপারভাইজার তার কাছে থাকা টাকার বান্ডেল দেখে ফেলেন। এরপর টাকার লোভে পড়ে চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
অন্যান্য যাত্রীরা গন্তব্যে নেমে যাওয়ার পর বাসটি ফাঁকা হলে তারা ইসমাইল হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তার কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ রাজধানীর বনানী ফ্লাইওভারের নিচে ফেলে পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই পুলিশ স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
গণপরিবহনের চালক ও সহযোগীদের মাধ্যমে সংঘটিত এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে পুরো জামালপুর জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা