সোনারগাঁয়ে পুরাতন ভবনের ছাদ ধসে ষাটর্ধো এক বৃদ্ধা আহত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বিশেষ খানা এলাকায় প্রায় ৪ শত বছরের পুরোনো একটি ভবনের ছাদ ধসে আক্তার বানু নামে ষাটর্ধো এক বৃদ্ধা গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আক্তার বানুকে প্রথমে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত নারীর ভাতিজা নয়ন জানান, রাতে ভবন ধসে পড়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত সেখানে ছুটে যান এবং আহত অবস্থায় আক্তার বানুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
আহত নারীর নাতি আরাফাত জানান, রাতের খাবার শেষে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ০১ টার দিকে ভবনের লোহা বা রড খুলে নেওয়ার চেষ্টা করছে এমন চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা বাইরে বের হন। চোরদের ধরতে না পেরে কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে শুয়ে পড়েন। এরপর রাত সাড়ে ১টার দিকে হঠাৎ দোতলার ছাদ ধসে পড়ে। এতে তার দাদি আক্তার বানু মারাত্মকভাবে আহত হন।
আরাফাতের দাবি, চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরেই ওই ভবনসহ আশপাশের পুরোনো ভবনগুলো থেকে লোহা ও রড খুলে নিয়ে যাচ্ছে। রবিবার দিবাগত রাতেও চোরেরা ভবনে প্রবেশ করে রড খুলতে চেষ্টা করে। তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পরই ছাদটি ধসে পড়ে।
ভবনে বসবাসকারী অন্যান্য পরিবারের সদস্যরাও জানান, স্থানীয় কিছু বিপথগামী যুবক মাদক কেনার টাকার জন্য প্রায় ৪শত বছরের পুরোনো এসব ভবন থেকে নিয়মিত লোহা ও রড খুলে নিয়ে যায়। এতে ভবনগুলো দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এক যুগেরও বেশি সময় আগে উপজেলা প্রশাসন ভবনগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সতর্ক করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ভবনে নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত একাধিক পরিবার বসবাস করছে। একই সঙ্গে সেখানে একটি সরকারি ইউনিয়ন ভূমি অফিসও রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও চাকরি করলেও প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তারা।
ভোরের আকাশ/তা.কা