পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসা, শিক্ষার্থীদের পাশে প্রধানমন্ত্রী

এসএসসি পরীক্ষায় পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে ক্যানসারে আক্রান্ত সহপাঠীর মায়ের চিকিৎসায় অর্থ সহায়তা দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সখীপুরের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নাঈম সিকদারের অসুস্থ মায়ের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি জানিয়েছেন সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইউএনও আশরাফুল আলম জানান, সখীপুর উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনের শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। সহপাঠী নাঈমের ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইউএনও জানান, আগামী শনিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নাঈমের মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
নাঈম সিকদার বলেন, ইউএনও ফোন করে তাকে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাসের বিষয়টি জানিয়েছেন। বর্তমানে তার মা লাইলী বেগম ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয়েছে—এ খবর জানতে পেরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেকটা সাহস পেয়েছেন বলে জানান নাঈম।
তিনি আরও বলেন, কয়েক মাস আগে তার বাবা আব্দুল শিকদার ধারদেনা করে কাজের উদ্দেশ্যে কাতারে যান। সেখানে গিয়ে এখনো কোনো কাজ পাননি এবং অবৈধ অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে মায়ের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ায় পরিবারটি আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়ে।
এ অবস্থায় সহপাঠীরা এসএসসি পরীক্ষায় পাসের আনন্দে মিষ্টি কেনার জন্য রাখা টাকা দিয়ে নাঈমের মায়ের চিকিৎসায় সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৬ আগস্ট তারা নাঈমের দাদা আব্দুস সাত্তার সিকদারের হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
কলতান বিদ্যানিকেতনের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদল বলেন, শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সহপাঠীর বিপদের সময়ে আনন্দ-উৎসবের অর্থ চিকিৎসার কাজে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত বিদ্যালয়ের জন্যও গর্বের। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় নাঈমের পরিবার ও বিদ্যালয়ের সবাই আনন্দিত।
এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী ইমরান, জাহিদ ও আপন বলেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দে মিষ্টিমুখ করার চেয়ে অসুস্থ সহপাঠীর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে তারা বেশি আনন্দিত।
জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে নাঈমের মা লাইলী বেগমের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় অসচ্ছল পরিবারটি বিপাকে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে নাঈমের সহপাঠীরা মিষ্টি না কিনে বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় অর্থ সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয়।
শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে গত ১৬ আগস্ট বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দেশজুড়ে প্রশংসিত হয় তাদের উদ্যোগ। এবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ায় নাঈমের পরিবারে চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা