জীবননগরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ফুটবল ম্যাচ, ৭-৫ গোলে শিক্ষকদের জয়

মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও শিক্ষার্থীদের শারীরিক-মানসিক বিকাশের বার্তা নিয়ে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। রোমাঞ্চকর ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ ম্যাচে ছাত্র একাদশকে ৭-৫ গোলে হারিয়ে জয় পেয়েছে শিক্ষক একাদশ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলার মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব মাঠে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রেণিকক্ষে যাঁদের হাতে থাকে চক, ডাস্টার ও কলম, সেই শিক্ষকদেরই এদিন দেখা যায় সবুজ মাঠে ফুটবল পায়ে। অন্যদিকে তাঁদের প্রতিপক্ষ ছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। খেলার শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। একের পর এক গোল হওয়ায় ম্যাচজুড়ে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা।
শিক্ষক একাদশের নেতৃত্ব দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক। অন্যদিকে ছাত্র একাদশের অধিনায়ক ছিলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুহিত ইসলাম রোহান। শিক্ষক একাদশের হয়ে সহকারী শিক্ষক নিজামুল হক, সহকারী শিক্ষক আব্বাস আলী ও শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ব্যতিক্রমী এ ম্যাচ উপভোগ করতে বিদ্যালয়ের মাঠের চারপাশে ভিড় করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রিয় দলের সমর্থনে তাঁদের করতালি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
খেলা শেষে প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, “শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে এবং তাদের মাদক থেকে দূরে রাখা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হয়। মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাপিয়ে এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
খেলা শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মহিবুল হক, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নিজামুল হক, সিনিয়র শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান, শিক্ষিকা সেলিনা আক্তার, সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার বিউটিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
ভোরের আকাশ/সু.পা