সাতকানিয়ায় মুখোশধারীদের ছুরিকাঘাতে দুই জামায়াত নেতা আহত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় রাতের আঁধারে একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও লাঠির আঘাতে জামায়াতে ইসলামীর দুই নেতা আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে এওচিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামের বড় পুকুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মো. জাকারিয়া রুবেল (৩৫) ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং আগামী ইউপি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা জাকারিয়া (৪৫)।
এদের মধ্যে জাকারিয়া রুবেল ডান হাতের বাহুতে ছুরিকাঘাতে জখম হয়েছেন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকারিয়া স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে এওচিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ আলী মেম্বারের বাড়িতে পারিবারিক মেহেদি অনুষ্ঠানে অংশ নেন জামায়াত নেতা জাকারিয়া রুবেল ও মাওলানা জাকারিয়া। অনুষ্ঠান শেষে তারা তিনজন একটি মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ৭-৮ জনের মুখোশ পরিহিত দুর্বৃত্ত তাদের মোটরসাইকেল গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় জাকারিয়া রুবেলের ডান হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। এরপর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পর সাতকানিয়া থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে জাকারিয়া রুবেল বলেন, দাওয়াত শেষে মোটরসাইকেল যোগে আমরা তিনজন বাড়ি ফিরছিলাম। আমাদের মোটরসাইকেলটি পশ্চিম গাটিয়াডেঙ্গা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ৭-৮ জন মুখোশ পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী প্রথমে গাড়ির গতিরোধ করে। পরে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে তাদের হাতে থাকা দুই নলা বন্দুক দিয়ে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। পরে আমার ডান হাতের বাহুতে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এছাড়া আমার সাথে থাকা জাকারিয়া ভাইকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে আহত করা হয়। আমরা চিৎকার শুরু করলে তারা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে আমরা সংগঠনকে বিষয়টি অবগত করেছি। সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি তারেক হোসাইন বলেন, আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ পালন করার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজনের হাতে জখম হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/আ.র