শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ভূমি জটিলতা নিরসনে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভের উদ্যোগ, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: ভোরের আকাশ
ছবি: ভোরের আকাশ

পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য নয়—পাহাড়ি ও বাঙালিসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ নিরসনে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (সি.এস. জরিপ) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ এবং পরে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী “সবার জন্য বাংলাদেশ” ধারণা যুক্ত করেছেন। এর অর্থ হলো—দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও উন্নয়নের সুযোগ পাবে।

দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হলেও জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্টের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার জনপ্রতিনিধিদের মতামত ও স্থানীয় জনগণের চাহিদার ভিত্তিতেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে সব মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।

সাম্প্রতিক বন্যা মোকাবিলার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শোনা বর্তমান সরকারের জনমুখী কর্মকাণ্ডেরই অংশ।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। তাই জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে উঠছে।

সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও ভাতার একটি অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন, যাতে সাশ্রয় ও স্বচ্ছতার বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে যায়।

পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় কাটা, বন উজাড়, অবৈধভাবে গাছ নিধন কিংবা বন্যপ্রাণী ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় স্থানীয় ও পরিবেশবান্ধব প্রজাতির গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ নিরসনে ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, পূর্ণাঙ্গ ভূমি রেকর্ড না থাকায় নানা বিরোধ তৈরি হয়। জরিপ সম্পন্ন হলে সঠিক রেকর্ড তৈরি হবে এবং ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ তার প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। বর্তমান সরকার পরিকল্পিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে এবং উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও পৌঁছে যাবে।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মহালছড়ির চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে মহালছড়ি সদর ও মাইসছড়ি ইউনিয়নের দুর্গত মানুষের হাতেও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।

আরও পড়ুন

বিচার বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর

পরে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খাঁনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ভোরের আকাশ/জেআ

পার্বত্য চট্টগ্রামপার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিন

শেয়ার করুন: