শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মূল সন্দেহভাজন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চেনামতি এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। 

রোববার (১৪ জুন) রাতে পটিয়া থানা এলাকার একটি স্থান থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল। 

তিনি জানান, মামলার অন্যতম আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। 

নিহতরা হলেন একই এলাকার বাসিন্দা এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। হামলায় গুরুতর আহত হয় পরিবারের পাঁচ বছর বয়সী শিশু পিয়াস বড়ুয়া। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরের সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।

নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া দাবি করেছেন, প্রতিবেশী রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়ার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। তার অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী হামলাকারী হিসেবে তেজু বড়ুয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন। তবে এসব তথ্য তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছে পুলিশ এবং এখনই কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, আর্থিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করেছে কি না তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সহযোগীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধ দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে তা কখনও কখনও ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। 

তারা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা, হুমকির অভিযোগের দ্রুত তদন্ত, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের আচরণের ওপর নজরদারি বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

মনোহরগঞ্জে মাদকবিরোধী সেমিনার

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে। 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।

ভোরের আকাশ/ র.ই

জোড়া খুনমো. রাসেল

শেয়ার করুন: