মাদক সেবন দেখতে পাওয়ায় শিশুর পায়ুপথে ব্রাশের হাতল ঢুকিয়ে নির্যাতন

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে মাদক সেবন দেখার জেরে ১২ বছরের এক শিশুকে তুলে নিয়ে পায়ুপথে ব্রাশের হাতল ঢুকিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেককে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) ভোরে ভুক্তভোগী শিশুর বাবার লিখিত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আবদুল খালেক উপজেলার দক্ষিণ পাড়াগাব্দেরগাঁও গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে স্থানীয় বাজার থেকে ফুচকা খেয়ে বাড়ি ফেরার পথে শিশুটিকে একা পেয়ে পেছন থেকে জাপটে ধরেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি মসজিদের ছাদে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির পায়ুপথে প্লাস্টিকের ব্রাশের হাতল প্রবেশ করিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যান তাঁরা। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন।
পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত। শিশুটি তাঁদের মাদক সেবন দেখে ফেলায় এবং তা এলাকায় জানিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই এই বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মোড়ল মো. বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে তাদের মাদক সেবন দেখে ফেলায় তারা তাকে মসজিদের ছাদে নিয়ে বীভৎস নির্যাতন চালায়। তার পায়ুপথে মারাত্মক রক্তপাত হয় এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে। আমরা গরিব মানুষ, আমার ছেলের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছে, আমি তার বিচার চাই।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের উপদ্রব বাড়ার কারণে চুরি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, শিশুর ওপর ঘটা এ ধরনের নির্যাতন অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভুক্তভোগীর বাবার লিখিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে আবদুল খালেক নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব