ঝিকরগাছায় বালিকা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি ও আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

যশোরের ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের পদ্মপুকুর গ্রামের হাসপাতাল রোডে অবস্থিত রওজাতুল জান্নাত বালিকা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি, ব্যবস্থাপনা ও আবাসন পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিচালকের পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং পরিচালনা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে না পারার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, ২০২১ সালে পরিচালক মাওলানা আব্দুর রহমান তাঁর স্ত্রী রুবিনা খাতুনের নামে কেনা পাঁচ শতক জমিতে দুই কক্ষের একটি ঘরে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বোর্ড, ঢাকা থেকে নিবন্ধিত। এর নিবন্ধন নম্বর ইলহাক-ম-৬/৩৩২০।
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫ জন আবাসিক। আবাসিক শিক্ষার্থীদের তিনতলা ভবনের নিচতলার একটি সংকীর্ণ কক্ষে রাখা হয় বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে হিফজ বিভাগ এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। পরিচালকের স্ত্রী রুবিনা বেগম নাজেরা বিভাগের দায়িত্বে এবং তাঁর বড় মেয়ে হাফেজা হাফসা খাতুন হিফজ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিচালকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে ১১ জন সদস্য রয়েছেন। তাঁর বড় জামাতা হাবিবুর রহমান রাফি কমিটির সভাপতি এবং তিনি নিজে সেক্রেটারি ও পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তবে কমিটির অন্য সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তিনি দিতে পারেননি। নিয়মিত কমিটির সভা হয় না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মাদ্রাসাটির আবাসন পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন এক অভিভাবক। আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, তিনি তাঁর মেয়েকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু আবাসিক পরিবেশ ভালো না হওয়া এবং শিশুদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের কারণে মেয়েকে সেখান থেকে নিয়ে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন।
ঝিকরগাছা সরকারি এমএল হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাছিম বিল্লাহ শিশু একাডেমির অধ্যক্ষ এসএম মাহবুবুল আলম মন্টু বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে তিনি যুক্ত ছিলেন। তবে মাদ্রাসার নামে জমি হস্তান্তর না করা, পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠন না করা এবং পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারণে তিনি সরে আসেন।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাইফুল্লাহ বলেন, মাদ্রাসাটির বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখবেন।
সম্প্রতি মাদ্রাসাটির পরিচালকের বিরুদ্ধে দুই এতিম যমজ বোনকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামো, আবাসিক শিক্ষার্থীদের পরিবেশ এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ভোরের আকাশ/ এনউব