বিক্ষোভের পর দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের

বগুড়ার আদমদীঘিতে পাইকারী ও খুচরা বাজারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কাঁচা মরিচের। বাজারে প্রতিকেজি মরিচ বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজি দরে। এতে খুশি স্থানীয় মরিচ চাষীরা। গত মঙ্গলবার মহাসড়কে মরিচ ঢেলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানোর পরে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করছেন কৃষকরা। তবে, প্রতিমণ মরিচ বিক্রি করতে ধলকা দিতে হচ্ছে ২ কেজি। যা গত বছরেও ছিল ১ কেজি। এতে কৃষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত পচনশীল কাঁচামাল এটি। এজন্য ৪২ কেজিতে একমণ হিসেব করা হয়। বাজারে সরবরাহ কম আর চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে এই পণ্যটির।
শুক্রবার সকালে উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,প্রতিকেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মানভেদে ৩৫ থেকে শুরু করে ৫৫ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয় মরিচ। এই এলাকার মরিচ ঢাকা এবং চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য জেলায় বিক্রি হয়। গত বছরে মরিচের ভাল দাম থাকায় চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় বৃদ্ধি পেয়েছে মরিচের আবাদ। দাম ভাল থাকলে অল্প সময়ে লাভবান হবেন কৃষকরা।
সদরের গোড়গ্রামের কৃষক মোস্তফা জানান, ‘গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে মরিচের। এবছর মরিচের আবাদ খুব ভালো হয়েছে। এই আবাদে শ্রম বেশি দেওয়া লাগে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় কীটনাশক ব্যবহার কম করছি। দাম এটা থাকলেও লাভবান হব।’
অন্তাহার গ্রামের কৃষক নওশাদ, খেলু, কামাল, বাবু এবং রেজাউল জানান,‘প্রতি বছরই আমরা মরিচের আবাদ করি। এবছর প্রথম থেকেই মরিচের দাম কম। সেজন্য যত্ন এবং কীটনাশক ছিঁটানো কমে দিই। অনেকেই জমি থেকে গাছ উঠিয়ে অন্য ফসল করছি। এখন দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন দাম থাকলে যতটুকুন আবাদ আছে সেটিই পরিচর্যা করলে ক্ষতিগ্রস্ত হব না।’
মান্নান এবং রাজ্জাক নামের মরিচ ব্যাপারীরা জানান,‘৫০ টাকা কেজি দরে মরিচ ক্রয় করেছি। এই বাজারে চাটি ও ব্যাপারীদের সংখ্যা বেড়েছে; সেই তুলনায় মরিচ কম। এজন্য বেশি দামে কিনতে হয়েছে মরিচ। এজন্য লাভ একটু কম হবে।’
ভোরের আকাশ/আজাসা