ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে কেউ সংসার করতে না পারলে, দেশের কোথাও পারবে না

"আমি বারবার বলেছি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে যদি কেউ সংসার করতে না পারে, তাহলে দেশের কোথাও সংসার করতে পারবে না। এটা আমার নিজের দেখা। এজন্য আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।"
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চেয়ে অন্য জেলায় আরো অনেক ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর মারামারি হয়। প্রায় ২০টি জেলায় কাজ করেছি, সেখানে দেখেছি। গোষ্টিগত দ্বন্দ্ব— এটা রেগুলার সব জায়গায় হয়। কিন্তু এটা বলে বলে এ জেলার মানুষকে নেগেটিভলি উপস্থাপন করা হয়। হাস্যরসের ভাব তৈরি করা হয়। মোবাইল খুললে, রিলসে দেখবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মারামারি।
আসলে কি তাই? আসলে কিন্তু তা না। আমার যখন এ জেলায় অর্ডার হয়, তখন অনেকে বলেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া! কেমনে সামলাবা, হেন-তেন...। এখানকার অফিসাররা যারা একবার চলে যান, তারা এখানে আরেকবার আসার জন্য উদগ্রীব থাকেন। কারণ তারা একবার বুঝে যান পরিবেশটা ঠিক ওই রকম নয়।
সাংবাদিকদের অবদানের কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। বক্তব্যের ফাঁকে আবেগাপ্লুত হয়ে কন্ঠস্বর আটকে যায়, এ সময় টিস্যু দিয়ে তাঁকে চোঁখ মুছতে দেখা যায়। অল্প সময়ের জন্য পুরো মিলনায়তনে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে।
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগদানের পর কোন কাজগুলো আমাকে করতে হবে এর অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করি। তাতে দেখা যায়, এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সড়ক পথে যাতায়াতে দুর্ভোগ লাঘবে একাধিক আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে তার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা প্রশাসকের বিদায়ী সংবর্ধনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন— অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন কুমার দে, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মোহাম্মদ ইশতিয়াক ভূঁইয়া, এনডিসি শাহরিয়ার হাসান খান।
এসময় বক্তব্য রখেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সাবেক সভাপতি মো. আরজু, সিনিয়র সদস্য মনজুরুল আলম, সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মো. সহিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী বাপ্পী, সহ- সভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত, সাবেক সিনিয়র সহ- সভাপতি পীযুষ কান্তি আচার্য ও আল আমিন শাহিন। সদস্য শাহাদাত হোসেন, দৈনিক কালেরকণ্ঠের বিশ্বজিৎ পাল বাবু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এসময় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের দফতর সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ।
ভোরের আকাশ/জাআ