শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

বজ্রপাতে ছয় জেলায় ১২ জনের মৃত্যু

ভোরের আকাশ ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২:৫৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি সংগ্রহীত
ছবি সংগ্রহীত

দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ, রংপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার পৃথক পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯ জন।

আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, এদিন বজ্রপাতে সুনামগঞ্জে পাঁচজন, রংপুরে দুইজন, ময়মনসিংহে দুইজন এবং নেত্রকোনায় একজন, হবিগঞ্জে একজন এবং কিশোরগঞ্জে আরও একজন নিহত হয়েছে।  ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনামগঞ্জ জেলার পৃথক স্থানে পাঁচ কৃষক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার হাওর এলাকার পৃথক পৃথক স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম (২৫), জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন (২৬), ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান (২৪) ও রহমত উল্লাহ (১৩) এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া (৩৮)।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে ধান কাটছিলেন কৃষক আবুল কালাম। হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল কালামকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার বজ্রপাতে কৃষক নাজমুল হোসেনের মৃত্যু হয়। তিনি চানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানান, বজ্রপাতে এক কৃষক নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। ধর্মপাশা উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষক মারা গেছে। তাদের একজন হাবিবুর রহমান উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যজনের নাম রহমত উল্লাহ। সে জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া দিরাই উপজেলাতেও বজ্রপাতে লিটন মিয়া নামে এক কৃষকের প্রাণহানি ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানান, কালিয়াগোটা (আতরার) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন কৃষক লিটন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক লিটনকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিন সকালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজন মারা গেছে। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হন।  

জানা গেছে, উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখিপুর গ্রামের ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরছিলেন কয়েকজন জেলে। তারা এক পুকুর থেকে অন্য পুকুরে পোনা মাছ তোলার কাজ করছিলেন। যা দেখতে সেখানে ভিড় করেন শিশুসহ স্থানীয় ১৫-২০ জন। এসময় বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত হয়। এতে তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধারের পর মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেলে মিলন মিয়া ও কৃষক তালেব উদ্দিনের মৃত্যু হয়। জেলার গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

জানা গেছে, শনিবার দুপুর ২টার দিকে ভগ্নিপতির ধানখেত দেখতে যান যুবক রহমত আলী উজ্জল (৩০)। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। আলী উজ্জল গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন মুদি দোকানি।

গৌরীপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এদিকে, গফরগাঁও উপজেলায় জোহরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন মমতাজ আলী খান। পথে হঠাৎ বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মমতাজ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মমতাজ আলী (৫৮) উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের মৃত সেকান্দর আলী খানের ছেলে।

হাওরে পড়ে ছিল কৃষকের মরদেহগরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় আলতু মিয়া (৬৫) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর একটার দিকে উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলতু মিয়া একই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে মেষি হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যান কৃষক আলতু মিয়া। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ আকাশ কালো করে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। বৃষ্টি শেষ হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে আলতু মিয়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে। এসময় তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন তারা।

আটপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুবায়দুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের সুরতাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বর্গা নেওয়া জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৫৫) নামে এক কৃষক মারা গেছে। শনিবার উপজেলার ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়নের মমিনা হাওরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুনাম উদ্দিন একই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে ছেলে নুরুজ্জামান মিয়াকে নিয়ে ধান কাটছিলেন কৃষক সুনাম উদ্দিন। দুপুরে কাটা ধান দিয়ে ছেলে বাড়ি পাঠাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে আশপাশের শ্রমিকরা সুনাম উদ্দিনকে উদ্ধার করে বাড়িতে খবর দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মিয়া বলেন, সুনাম উদ্দিন তার ছেলেকে নিয়ে বর্গা জমিতে চাষ করতেন। তার এমন মৃত্যুতে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হলুদ মিয়া উপজেলার ৯ নম্বর জয়কা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলাবাগ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, হাওরে ধান কাটার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হন হলুদ মিয়া। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বলেন, বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোরের আকাশ/নি

বজ্রপাত

শেয়ার করুন: