বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুই ইউনিট বন্ধ, উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি গত ৫ অক্টোবর সকালে ও ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটটি ৬ অক্টোবর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রটির ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে বর্তমানে কোনো ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না।
কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ১১ মাস ধরে ইউনিটটি বন্ধ থাকায় সেটি মেরামতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের মতে, দ্বিতীয় ইউনিটটি মেরামতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, তা দিয়ে নতুন একটি ইউনিট নির্মাণ করা সম্ভব।
এদিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিটটিও বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে আসছিল। গত ৫ অক্টোবর ইউনিটটিতে আগুন লাগার পর এর বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রথম ও তৃতীয় ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি সংস্কারে চীনের হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে কবে নাগাদ ইউনিট দুটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি।
তৃতীয় ইউনিটটি ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার হলেও চালু থাকা অবস্থায় প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করত। ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
অন্যদিকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। এ ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা ব্যবহার করা হতো।
কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ১৯ মে তৃতীয় ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে যায়। ইউনিটটি মেরামতে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। আমন মৌসুমের পর ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষিতে সেচ ও শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে। এ অবস্থায় কেন্দ্রটির ইউনিটগুলো দ্রুত সচল করা না গেলে কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটগুলো সচল রাখতে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি ইউনিট বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে ইউনিট দুটি দ্রুত চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভোরের আকাশ/জেআ