শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বগুড়ার সাব-রেজিস্ট্রার অনিমেষ পালের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৬ আগস্ট ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

দলিল নিবন্ধনে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি হস্তান্তরে সহযোগিতাসহ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার অনিমেষ পালের বিরুদ্ধে। 

একই সাথে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সৈয়দা নুজাহাত সুলতানা। গতকাল বগুড়া জেলা প্রশাসক এবং দুদকের বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ে পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি। 

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামী সৈয়দ জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে একাধিক আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি নিয়ে ডেভেলপারের সঙ্গে সম্পাদিত উন্নয়ন চুক্তির মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হয়ে যায় এবং চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হওয়ায় বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। 

বর্তমানে সম্পত্তি-সংক্রান্ত একাধিক দেওয়ানি ও আপিল মামলা চলমান থাকা এবং আদালতের অর্ন্তর্বতীকালীন আদেশ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও নির্মাণাধীন ভবনের ফ্ল্যাট, দোকান ও শোরুম বিক্রি ও হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এবং সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কীভাবে ডেভেলপার একই সম্পত্তি হস্তান্তর করলেন। তৎকালীন বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার অনিমেষ পাল প্রয়োজনীয় যাচাই বাছাই ছাড়াই দলিলটি নিবন্ধন করেন। দায়িত্বের অপব্যবহার করে অবৈধ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে দলিল নিবন্ধনের সুযোগ করে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। 

নুজাহাত সুলতানা বলেন, আমার জমি বারবার বেআইনিভাবে হাতবদল করা হচ্ছে। একাধিক আদালতে মামলা চলমান। রেজিস্ট্রি অফিসে আইনি নোটিশ দিলেও সাব-রেজিস্ট্রার তা গ্রহণ করেননি। সম্প্রতি আবারও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জমিটি অন্য একজনের নামে নিবন্ধন করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি দুদক ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এছাড়া অনিমেষ পালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, হয়রানির অভিযোগ রয়েছে এবং তার সম্পদের বৈধ উৎস যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।  

অনিমেষ পালের নেতৃত্বে বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অনিয়মে জড়িত একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলায় অনিমেষ পালের পরিবারের নামে প্রায় ৩২৫ শতক জমি রয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এসব জমির মালিক হিসেবে তার বাবা অসিত কুমার পাল ও মা গীতা পালের নাম রয়েছে। এসব সম্পদের বৈধ উৎস, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব এবং সরকারি চাকরির বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংযুক্ত করা হয়েছে। 

এছাড়া শেরপুর উপজেলার খেরুয়া মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ২৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার অনিমেষ পাল। ওই জমির অংশীদার হিসেবে তার কার্যালয়ের সাবেক কেরানি তানজিলের নামও রয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে বগুড়া সদর আদালতের বিচারক মেহেদী হাসান সাব-রেজিস্ট্রারকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেন।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অসদাচরণ ও জালিয়াতির অভিযোগে আমরা দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছি। আসামিরা জাল সার্টিফায়েড কপি তৈরি এবং দলিলের মূল পাতা পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতারণা করেছেন। পরে মামলাগুলো পিবিআইয়ের তদন্তে গেলে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে দুটি ভিন্ন ও পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৫৬ সালের ২৭৭ নম্বর ভলিউমটি নেই। পরবর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভলিউমটি রয়েছে। তবে অধিকাংশ পাতা ক্ষতিগ্রস্ত এবং লেখা অস্পষ্ট। এতে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়ে অনিমেষ পালের কার্যালয়ে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। মোবাইল ফোনে একাধিকার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। 

তবে বগুড়ার জেলা রেজিস্ট্রার সিরাজুল ইসলাম বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যে জেলায় কর্মরত থাকেন সেই জেলায় ব্যক্তিগতভাবে সম্পদ অর্জনের বিষয়ে সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

কক্সবাজারে ট্যুরিস্ট জিপ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, দুটি গাড়ি জব্দ

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোরের আকাশ/রই 


 

তৌফিকুর রহমান

শেয়ার করুন: