ডিমলায় আটক ১০০ বস্তা সার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ ও পথসভা

কৃষকের সারপ্রাপ্তি নিয়ে সংকট ও নানা অভিযোগের মধ্যেই নীলফামারীর ডিমলায় আটক ১০০ বস্তা ইউরিয়া সারকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিক্ষোভ হয়েছে। আটক সার কোথায় গেল, কার হেফাজতে ছিল এবং কীভাবে তা নিষ্পত্তি করা হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের খগারহাট এলাকায় উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত বিক্ষোভ র্যালি ও সংক্ষিপ্ত পথসভায় এসব দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে প্রায় দুই শতাধিক কৃষক, শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ অংশ নেন। র্যালিটি খগারহাট এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত পথসভায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বক্তারা সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও কথিত সার সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পথসভায় বক্তারা বলেন, কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার নিয়ে অনিয়ম, পাচার, মজুতদারি কিংবা সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠলে তা ধামাচাপা না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক শাহ আজিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব রাশেদ ইসলাম, জেলা শ্রমিক শক্তির সদস্য সচিব জাফর হোসেন জাকির, কৃষক শক্তির সদস্য সচিব ইউনুছ আলী, প্রচার সম্পাদক সন্তোষ কুমার, বালাপাড়া ইউনিয়ন এনসিপির আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন ও সারসংক্রান্ত ঘটনায় অভিযোগকারী আব্দুর রহমানসহ অন্যরা।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরে খগারহাট বাজারে চারটি অটোমিশুকে করে ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার পরিবহনের সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সেগুলো আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, পরিবহনকারীদের কাছে সারের বৈধ ভাউচার ও ডিলারসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল। এরপর আটক সারকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সার পাচার ও সিন্ডিকেটের অভিযোগও ওঠে।
ঘটনার পর ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্নাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
তবে অভিযোগকারী ও আন্দোলনকারীদের দাবি, ঘটনার পর পর্যাপ্ত সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি কিংবা গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। এ কারণেই তারা নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
এর আগে উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছিল, কৃষক পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ডিমলার ১০টি ইউনিয়নের ৯০টি ওয়ার্ডে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করে সার কার্ড দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট ডিলার পয়েন্ট থেকে সার কার্ড ছাড়া সার বিতরণ না করার কথাও জানানো হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, সার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনার অংশ। ফলে সার নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ ও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খগারহাটের ঘটনাটি শুধু বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে। প্রকৃত ঘটনা যা-ই হোক, তা জনসম্মুখে পরিষ্কার করা হবে এবং কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে অবৈধ মজুত, পাচার বা অনিয়মের শিকার না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা