ইরান-বাংলাদেশ মতবিনিময় সভায় বক্তারা
আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও কিবলার প্রতি বিশ্বাসীরা একই মুসলিম উম্মাহ

এক আল্লাহ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং একই কিবলার প্রতি যারা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস রাখেন, তারা সবাই মুসলিম উম্মাহর অংশ। আকিদা বা মাজহাবের কিছু পার্থক্য থাকলেও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা ড. সাইয়্যেদ মাহদী আলীযাদেহ মুসাভী, ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদী মৌলায়ী অরনি, ইরানের কোম নগরীর ইসলামিক সেমিনারির শিক্ষক ও গবেষক সাইয়্যেদ মোস্তফা মুসাভী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা কাসেম শাবানকারী এবং চট্টগ্রাম ইমামবাড়ার ইমাম মাওলানা আমজাদ হোসাইন।
বক্তারা বলেন, বিশ্বে ৫৭টি মুসলিম দেশ থাকা সত্ত্বেও আকিদাগত মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এর সুযোগ নিয়ে ইহুদি ও খ্রিস্টানপ্রধান শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন মুসলিম দেশের ওপর আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান যেভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিপক্ষের জবাব দিয়েছে, তা মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি বার্তা। মুসলিম দেশগুলোর উচিত পারস্পরিক বিরোধ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। একই সঙ্গে ইরানের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনের প্রশংসা জানিয়ে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ-ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।
বক্তারা আকিদাগত মতভেদকে সংঘাতের কারণ না বানিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তারা বলেন, ফার্সি ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গবেষণার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহও তারা ব্যক্ত করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশে অবস্থিত ইরান দূতাবাসের কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রামে দিনব্যাপী সফর করেন। সকাল ৯টায় তাদের প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় লালখান বাজারের জামেয়াতুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদরাসায়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মাদ ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী। মাদরাসার পক্ষে বক্তব্য দেন মুফতি আবু সাফওয়ান, মুফতি নুরুল হক বুখারী, মাওলানা আজিজুল হক ও মাওলানা আবু সালেহ।
পরে সকাল ১১টায় বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসায় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি শেখ আবু সালেহ মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ। সর্বশেষ দুপুর ১টায় জোহরের নামাজের পর হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভোরের আকাশ/ইউএম