কুষ্টিয়ায় ধর্ষনের অভিযোগে যুবকের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানার বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজ ছাত্রী’কে ধর্ষনের দায়ে জনি ওরফে রাজিম (২৮) নামের যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের দন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) এর বিচারক জয়নাল আবেদীন জনাকীর্ণ আদালতে পলাতক আসামীর অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন।
দন্ডপ্রাপ্ত হলেন- ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে জনি ওরফে রাজিম (২৮)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় ও দু’জনের মধ্যে গড়ে উঠা সম্পর্কের সূত্রে নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয়দানকারী আসামী জনি ২০২২ সালের ০১ জানুয়ারী রাতে একই উপজেলার বাসিন্দা বাদিনী তরুনীর বাড়িতে দেখা করে।
এসময় বাদিনীর বাড়িতে বাবা মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে জনি বাদিকে ধর্ষন করে। এর পর থেকে আসামী জনি ওই তরুনীকে বিয়ে করার প্রলোভন দিয়ে অসংখ্যবার ধর্ষন করে। একপর্যায়ে বাদি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েন।
বিষয়টি পারিবারিক ভাবে জানাজানি হলে আসামী জনিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়া হয়। এসময় আসামী জনি নিজেকে সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রমোশন নিয়ে তার অফিসে ঘুষ দেয়ার কথা বলে ৮ লাখ টাকা দাবি করে বাদিনীর পরিবারের কাছে।
এতে একমাত্র কন্যার জীবনকে সুখী করার কথা ভেবে বাদির প্রবাসী পিতা আসামীর দাবিকৃত টাকাও দেয়। এরপর থেকে আসামী বাদিনী বা তার পরিবারের সাথে সম্পূর্নরূপে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় এবং বাদিনীর গর্ভে তার সন্তান নয়, বাদিকে চরিত্রহীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে আসামী।
ইতোমধ্যে ২০২৩ সালের ০২ মার্চ তারিখে আসামীর ঔরষে বাদিনীর গর্ভে একটি পূত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করে। এতে উপায়ান্তর না পেয়ে ২০২৩ সালের ২২ জুনে বাদিনী কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশী মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে প্রমানিত হওয়ায় এজাহার নামীয় একমাত্র আসামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে ভেড়ামারা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক মিন্টু মিয়া ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি এ্যাড. আব্দুল মজিদ জানান, ‘ভেড়ামারা থানার তরুনী ধর্ষনসহ প্রতারণার অভিযোগে আসামী জনি ওরফে রজিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ এক লাখ টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা খাটার আদেশ দেন।
আসামী জনি ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয়ে কারাবাসে ছিলেন, পরবর্তীতের জামিনে বেরিয়ে অদ্যবদি পলাতক আছেন বলেও জানান এই রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি।
ভোরের আকাশ/ র.ই