এক রাতে ছয় গরু চুরি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পাশাপাশি দুই পরিবারের দুটি গোয়ালঘর থেকে ছয়টি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোরচক্র। এতে প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুই ভাই আব্দুল খালেক (৫৫) ও আব্দুল মালেক (৪৮)। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরহোসেনপুর গ্রামে চুরির ঘটনাটি ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গরুগুলোকে খাবার দিয়ে ঘুমাতে যান পরিবারের সদস্যরা। ফজরের আজানের পর আব্দুল খালেক গোয়ালঘরে গিয়ে দেখেন দরজার তালা খোলা। ভেতরে ঢুকে গরু না দেখে চিৎকার শুরু করেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা এসে দেখেন, তাঁর গোয়াল ঘরের তিনটি গরুই নেই। একই সময় পাশের আরেকটি গোয়াল ঘরে গিয়ে আব্দুল মালেকও দেখতে পান তাঁর তিনটি গরুও চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া গরুর মধ্যে আব্দুল খালেকের দুটি ষাঁড় ও একটি গাভি ছিল, যার আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ টাকা। অপরদিকে আব্দুল মালেকের একটি গাভি ও দুটি বকনা গরুর মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। মালেকের গাভিটি কয়েক দিনের মধ্যেই বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিলো।
গরু মালিক আব্দুল মালেক জানান, ঘরটি খুবই জরাজীর্ণ ছিলো। গাভিটি বাচ্চা দেওয়ার পর বিক্রি করে নতুন ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা ছিলো তার। গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
আব্দুল খালেক জানান, তার ওপর ঋণের চাপ রয়েছে। একটি ষাঁড় গরু বিক্রি করে ঋণ শোধ করার কথা ছিল। এখন তিনি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। মালেকের স্ত্রী মাজেদা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে গরুগুলোর দেখাশোনা করতেন। গরু চুরির পর থেকে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, খুব পরিকল্পিত ভাবে চুরির ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। একটি গরুর সঙ্গে কৃষকের স্বপ্ন ও জীবিকা জড়িয়ে থাকে। দ্রুত গরু উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আজম জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চোরচক্রদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলছে।
ভোরের আকাশ/এনউব