জামালপুরে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নামে তিনটি বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত

জামালপুরের মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিগত ফ্যাসিস্ট আ-লীগ সরকারের ১৬ বছর ধরে রাস্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারপারসন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে ৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠদান ও জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর প্রাথমিক স্তরে শতভাগ ভর্তি ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সকল উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম ও এলাকায় আরো নতুন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও চালু করার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এক পরিপত্র জারি করেন ।
সেই পরিপত্রের আলোকে বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার ন্যায় জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ২০০৯ সালে রাস্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে মাদারগঞ্জ উপজেলার ২নং কড়ুইচূড়া ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামে নলছিয়া শহীদ জিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০১০ সালে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নামে ঘুঘুমারী গ্রামে ঘুঘুমারী সরকার বাড়ী বেগম খালেদা জিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে মেলান্দহ উপজেলার ৩নং মাহমুদপুর ইউনিয়নের কাজাই কাটা গ্রামে পশ্চিম কাজাই কাটা তারেক জিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে ৩টি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।
দেশের অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত এই সব বিদ্যালয় ৩টির পাঠদানসহ যাবতীয় কার্যকম চলমান থাকা অবস্থায় ২০১২ সালে বাংলাদেশের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি ও বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবির আন্দোলনের মূখে তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারী ঢাকা তেজগাঁও পুরান বিমান বন্দরে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশে ২৬ হাজার ২৯২ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন।
ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২৬ হাজার ২৯২ টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আওতায় নলছিয়া শহীদ জিয়া, ঘুঘুমারী সরকার বাড়ী বেগম খালেদা জিয়া ও পশ্চিম কাজাই কাটা তারেক জিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩টি অন্তর্ভূক্ত ছিল। জাতীয়করণের জন্য অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাথে মাদারগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কাগজপত্র জমা প্রদান করা হয়েছিল।
কাগজপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই বাছাই ও তালিকাভুক্ত করনের সময় যাবতীয় কাগজ ও দলিল পত্রাদি সঠিক থাকার পরেও প্রতিষ্ঠাতা বিএনপি করেন এবং প্রতিষ্ঠানের নাম শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়ার নামে নামকরণ থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্ররোচনায় ও চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপির নির্দেশে বিদ্যালয় ৩টির তালিকা জাতীয়করণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ না করায় বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ও জাতীয়করণ হতে বঞ্চিত হয়েছে।
এছাড়াও বিদ্যালয়গুলোর নাম মুছে ফেলার জন্য ডিও লেটার দিয়ে ও দলিল সংশোধন করে একাধিক বার চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ না করায় কর্মরত শিক্ষকগন বেতন ভাতার অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় বিগত ১৬ বছর কোন প্রকার সরকারি অনুদান প্রদান না করায় কলেজ গৃহটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে, অপরদিকে একই মাঠে অবস্থানরত মির্জা আজম এমপি কর্তৃক তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত ঘুঘুমারী মির্জা আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন।
বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্থানীয় বাসিন্দা ও ৩টি স্কুলের শিক্ষকরা শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পুনরায় বিশেষ বিবেচনায় পাঠদান শুরু ও জাতীয়করণের জোর দাবী জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব