শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

কক্সবাজারের চার সংসদীয় আসনে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মুখোমুখি শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে ভোটের সমীকরণ বদলে গেছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮,৪৯,৯৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯,৮০,৬৫৩ জন এবং নারী ভোটার ৮,৬৯,৩৩১ জন।

কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া):
ভোটার সংখ্যা: ৫,৪০,৩৯০ জন
পুরুষ: ২,৯০,২৯১ জন , নারী: ২,৫০,০৯৯ জন।

এক সময় জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল চকরিয়া–পেকুয়া আসন। ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এনামুল হক মঞ্জু এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তবে ১৯৯৬ সালে সেই দুর্গ দখল করেন বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দীন আহমদ। ২০০১ সালে তিনি বিএনপি–জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালে এই আসনে নির্বাচিত হন তাঁর সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ।

দীর্ঘদিন পর এবার আবারও বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি মুখোমুখি। বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দীন আহমদের বিপরীতে জামায়াত প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন কক্সবাজার শহর জামায়াতের তরুণ নেতা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফারুক।

চকরিয়ার বদরখালী এলাকার তরুণ ভোটার মো. রাশেদ (২৫) বলেন, আমরা এবার নতুন নেতৃত্ব দেখতে চাই। তরুণ প্রার্থী হওয়ায় জামায়াতের প্রার্থীর দিকে তরুণদের একটা ঝোঁক আছে।

পেকুয়ার মগনামা এলাকার নারী ভোটার রেহেনা বেগম (৩৮) বলেন, আগে শুধু দল দেখে ভোট দিতাম। এবার এলাকার উন্নয়ন আর মানুষের পাশে কে থাকবে, সেটাই বিবেচনায় রাখছি।

চকরিয়ার ব্যবসায়ী মো. আবদুল করিম (৬০) বলেন, “সালাহউদ্দিন এই এলাকার রাজনীতিতে পরীক্ষিত নাম। আগে এমপি থাকাকালীন এলাকায় যেভাবে যোগাযোগ রাখতেন, সেটা মানুষ এখনো ভুলে যায়নি।

পেকুয়ার তরুণ ভোটার
রাশেদ মাহমুদ (২৬) বলেন, উনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, এটা সত্য। তবে আমরা তরুণরা চাই—তিনি আবার নির্বাচিত হলে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে সরাসরি কাজ করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চকরিয়া–পেকুয়ায় জামায়াত শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও বিএনপির দীর্ঘদিনের ভোট ব্যাংক এই আসনকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরিণত করেছে।

কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) :
ভোটার সংখ্যা (প্রায়): ৩,৮৭,৮৫১ জন
পুরুষ: প্রায় ২০৬,৪৫৬ জন,
নারী: প্রায় ১৮১৩৯৫ জন।

উপকূলীয় এই আসনে লড়াই করছেন দুই সাবেক সাংসদ। বিএনপির প্রার্থী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্বাচিত সাবেক সাংসদ ও দলের কেন্দ্রীয় সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ২০০৮ সালের সাবেক সাংসদ ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মহেশখালীর ভোটই এই আসনের ফল নির্ধারণে মূল ফ্যাক্টর হবে। কুতুবদিয়ায় ভোটার কম হলেও উভয় দলেরই শক্ত অবস্থান রয়েছে সেখানে। নারী ভোটারদের টানতে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ কর্মসূচি চালিয়ে আসছে বলে জানা গেছে।

এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সরওয়ার আলমও মাঠে রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি অন্তত ২০ হাজার ভোট পেতে পারেন, যা বিএনপির প্রার্থীর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মহেশখালীর নারী ভোটার নাজমা আক্তার (৪২) বলেন, নারী ভোটারদের নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের দিকেই আমাদের আগ্রহ বেশি।

কক্সবাজার–৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) :
ভোটার সংখ্যা (প্রায়): ৫,৪৫,৯৬২ জন
পুরুষ: প্রায় ২,৯১,১০০ জন, নারী: প্রায় ২,৫৪,৮৬২ জন।

এই আসনে বিএনপির অভিজ্ঞ প্রার্থী সাবেক সাংসদ ও দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজলের মুখোমুখি হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুর ওরফে ভিপি বাহাদুর।

জামায়াতের শীর্ষ পদে না থাকলেও ভিপি বাহাদুর স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে টানা মাঠে থাকার কারণে এই আসনে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তবে রামু উপজেলার বড় ভোট ব্যাংক লুৎফুর রহমান কাজলের জন্য বড় সহায়ক শক্তি হবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

রামুর এক তরুণ ভোটার সাইফুল ইসলাম (২৭) বলেন, ভিপি বাহাদুর মাঠে নিয়মিত থাকেন, মানুষ তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারে এটাই বড় বিষয়।

সদরের লিংকরোড়ের ব্যবসায়ী জমির উদ্দিন জানান, এই আসনে বিএনপি নেতা কাজল ভাই বিপুল সংখ্যক ভোটে এগিয়ে থাকবেন।

কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) :
ভোটার সংখ্যা (প্রায়): ৩,৭৫,৬৮২ জন
পুরুষ: প্রায় ১,৯২,৮০৬ জন,
নারী: প্রায় ১,৮২,৮৭৬ জন।

দেশের সর্বদক্ষিণের এই আসনে বিএনপির চারবারের সাবেক সাংসদ, হুইপ ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর বিপরীতে জামায়াতের জেলা আমীর ও সাবেক দীর্ঘদিনের ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এই আসনে অতীতে সরকারদলীয় প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে এলেও এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের ভোট ব্যাংক বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টেকনাফে জামায়াত এবং উখিয়ায় বিএনপি সেই ভোট টানতে তুলনামূলক এগিয়ে থাকতে পারে।


টেকনাফের  নারী ভোটার হাসিনা খাতুন (৪৫) বলেন, আমরা শান্তি ও নিরাপত্তা চাই। যিনি সেটা নিশ্চিত করতে পারবেন, তাকেই ভোট দেব।

ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, যিনি নির্বাচিত হবেন, তার কাছে প্রত্যাশা টেকনাফে অপহরণ এবং মাদক কারবার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারে জামায়াতের জনসমর্থন অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। চারটি আসনেই আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না বলেন, কক্সবাজার ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির দুর্গ। এবারও চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হবেন।

সব মিলিয়ে নারী ও তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে যাচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভোরের আকাশ/নি. ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

শেয়ার করুন: