রুট পারমিটবিহীন গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধের দাবি, বাস চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি

রাঙামাটিতে রুট পারমিটবিহীন মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি ও চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ২০ আগস্ট ২০২৬ থেকে রাঙামাটি থেকে বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠন দুটি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, পিপিএম এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেনের কাছে পৃথকভাবে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি রুটসহ রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি, মহালছড়ি, নানিয়ারচর, বান্দরবান ও রাজস্থলীসহ বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত যাত্রীসেবা দিয়ে আসছে সমিতিভুক্ত বাস ও মিনিবাসগুলো। সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে যাতায়াতের পাশাপাশি রাঙামাটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পরিবহনেও এসব যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে সম্প্রতি রাঙামাটি নিউ মার্কেট এলাকা থেকে রুট পারমিটবিহীন ছোট ছোট মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, যাত্রী পরিবহনের অনুমোদন না থাকা এসব মালবাহী গাড়িতে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এতে একদিকে সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘনের আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সংগঠন দুটির অভিযোগ, বৈধ রুট পারমিট নিয়ে যাত্রী পরিবহনকারী বাস-মিনিবাসগুলো বিভিন্ন নিয়ম-কানুন মেনে চলাচল করলেও রুট পারমিটবিহীন মালবাহী গাড়িতে যাত্রী পরিবহনের কারণে বৈধ পরিবহন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে রাঙামাটি নিউ মার্কেটসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় রুট পারমিটবিহীন মালবাহী গাড়িতে অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী ২০ আগস্ট ২০২৬ থেকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি-মহালছড়ি, রাঙামাটি-নানিয়ারচর, রাঙামাটি-বান্দরবান ও রাঙামাটি-রাজস্থলীসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠন দুটি।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা বলেন, তারা কোনো ধরনের সংঘাত বা যাত্রী দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চান না। বরং বৈধ পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং সম্ভাব্য পরিবহন ধর্মঘটের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
ভোরের আকাশ/সু.পা