গাজীপুরে জাসাস নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

গাজীপুরের শ্রীপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের যুগ্ম সম্পাদক ফরিদ সরকারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার লতিপুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদ সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর গত ২৪ জুলাই দেশে ফিরে একটি ইটভাটার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

মঙ্গলবার গভীর রাতে গোসিংগা ইউনিয়নের লতিফ পুর গ্রামে এবিএম ইটাখোলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরিদ সরকার পাশ্ববর্তী নারায়নপুর গ্রামের জামাল সরকারের পুত্র।তিনি গোসিংগা ইউনিয়ন জাসাসের ১নং যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।
নিহতের পিতা জামাল সরকার জানান, মঙ্গলবার রাতে তার ছেলে ভাত খাচ্ছিলো।তখন একটা ফোন আসে।পরে সে মটর সাইকেল নিয়ে চলে যায়।ভোর রাতে সবুজ মেম্বার ফোন করে বলে ফরিদ এক্সিডেন করেছে।আমরা এবিএম ইটখোলা থেকে তার রক্তাক্ত দেহ শ্রীপুর হাসপাতালে নিয়ে যাই।এসময় তার ডান হাতের কব্জি কাটা ছিলো।মাথা ফেটে রক্ত ঝড়ছিল।
পরে তাকে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে।
তার মা ফরিদা ইয়াসমিন জানান আমার ছেলে ইট খোলায় মাটি ও বালি দিতো।রাতে তাকে ফোন করে কে বা কারা ডেকে নিয়ে যায়।প্রতিবেশীদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। তারাই তাকে মেরে ফেলেছে। কি দোষ ছিল তার।আমার নাতিটাকে এতিম করে দিলো। ওরা কেনো আমার ছেলেকে মেরে ফেলল?আমি এর কঠিন বিচার চাই।নিহত ফরিদা ফুপাতো ভাই মাসুদ রানা জানান,ফরিদ ১৫/১৬ বছর জর্দানে ছিলো।৫ আগস্টের পরে দেশে ফিরে আসে।সে জাসাসের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। মাটি ও বালির ব্যবসা করতো।জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছাড়া তার কোন শত্রু ছিলো না।শুনেছি মৃত্যুর পূর্বে অনেকের নাম বলে গেছে।
প্রত্যক্ষ্যদর্শী ইটা খোলার শ্রমিক জাকির ও মিনারুল জানায়,রাত তিনটার দিকে ফরিদ ও আরেকটা লোক এখানে এসে আগুন পোহাতে থাকে।চারটার দিকে রাম দা ছুড়ি নিয়ে ৫/৭ জন লোক প্রবেশ করে তাদের ভয়ভীতি দেখালে তারা ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বসে থাকে।এসময় ডাকচিৎকার শুনলেও তারা ভয়ে বের হয়নি।
শ্রীপুর থানার ওসি নাছির আহমেদ জানান,আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।অনেক ক্লু পেয়েছি তদন্তের সার্থে এখন প্রকাশ করা যাবে না। লাশ শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে।ময়নাতদন্তের পর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.