নবীনগরে কলেজছাত্রী হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার জুঁই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল জুঁই হত্যার বিচারের দাবিতে লেখা সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।
কলেজের অধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন বলেন, জুঁই ছিল শান্ত স্বভাবের মেয়ে। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। কিন্তু যারা এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ বিচার চাই।
নিহত ফারজানা আক্তার জুঁইয়ের পিতা আবু হাসনাত রানা জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর আমি নবীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
জুঁই ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ থেকে ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করে নবীনগর সরকারি কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। এলাকাবাসী জানান, জুঁইয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর তখন ওই পুকুরে জিনের আছরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হয়।
ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি অপপ্রচার। মূলত জুঁই দেখতে খুবই সুশ্রী ছিল। আমাদের বিশ্বাস, তাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দিয়েছে খুনিরা। সে জন্যই আমরা আজ এই হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি করেছি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোরে লাউর গ্রামের নিজ ঘর থেকে নিখোঁজ হন কলেজছাত্রী ফারজানা আক্তার জুঁই। তিনি ওই গ্রামের আবু হাসনাত রানার মেয়ে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
ঘটনার দু'দিন পর শনিবার বাড়ির পাশের পুকুরে স্থানীয় এক ব্যক্তি কচুরিপানা সংগ্রহ করতে গিয়ে একটি ভাসমান লাশ দেখতে পান।
বিষয়টি জানাজানি হলে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশটি উদ্ধার করে এবং নিশ্চিত হয় এটি নিখোঁজ ফারজানা আক্তার জুঁইয়ের লাশ।
ভোরের আকাশ/জাআ