ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পুলিশের দুই সদস্য বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ঘুষ নিয়ে বড় একটি গাঁজার চালান ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ২ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি গভীর রাতে নবীনগরের সোহাতা-রসুল্লাবাদ সড়কের কানাইবাড়ি মোড়ে এসআই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি পিকআপ ভ্যান থামানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে ওই পিকআপ থেকে প্রায় ১৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হলেও নবীনগর থানায় এ বিষয়ে কোনো জব্দ তালিকা, মামলা নম্বর বা আলামত সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক নথি পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে পরে জেলা পুলিশের নজরে আসে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা থেকে নবীনগর হয়ে ঢাকাগামী পিকআপ ভ্যানে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল। ঘটনার রাতে পিকআপটি আটক হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। অভিযুক্তরা হলেন নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছার। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের কাছে ঘুষের অংক ৭ লাখ ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, 'টাকার পরিমাণের বিষয়ে আমার জানা নেই।'
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদক কারবারিদের সঙ্গে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের গাঁজা ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অংকের ঘুষের সমঝোতা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ফাঁস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার নবীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান ও কনস্টেবল আবু কাউছারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ভোরের আকাশকে জানান, শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই পুলিশ সদস্যকে গতকাল (শুক্রবার) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
ভোরের আকাশ/আ.ব