কুড়িগ্রামে সরকারি সেবা প্রাপ্তির সুযোগ জোরদারে জেলা সেমিনার

কুড়িগ্রামে প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তির সুযোগ জোরদারকরণ বিষয়ে জেলা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে আসা ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, কাজী, ইমাম, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং জেলার ১৫টি চরাঞ্চলের প্রশিক্ষিত কমিউনিটি প্যারালিগ্যালরা অংশ নেন।
সেমিনারে ফ্রেন্ডশিপের কুড়িগ্রাম জেলার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার নাঈম কামরানের সঞ্চালনায় এবং ফ্রেন্ডশিপ প্রধান কার্যালয়ের ইনক্লুসিভ সিটিজেনশিপ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার অ্যাডভোকেট একরামুল হকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিএম কুদরত এ খোদা।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মেহেদী হাসান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জয়ন্তী রানী, জেলা তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ফ্রেন্ডশিপের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেজওয়ানুল হক, রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর আব্দুস সালাম, প্যারালিগ্যাল আমিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা।
সেমিনারে ফ্রেন্ডশিপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় সাড়ে চারশ চরাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে তিন উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৫৭টি প্রত্যন্ত চরাঞ্চলকে ফ্রেন্ডশিপের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এসব চরাঞ্চলে বসবাসকারী বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে তাদের অধিকার ও সরকারি সেবা সম্পর্কে সচেতন করতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।
বক্তারা জানান, ফ্রেন্ডশিপের সিটিজেনশিপ প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যরা সরকারি সেবাগুলো প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে থাকেন। এর মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে।
সেমিনারে আরও জানানো হয়, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলগুলোতে ৫৭ জন প্রশিক্ষিত কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাল্যবিবাহের শিকার বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে সহায়তা করছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি, বিভিন্ন আইনি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের বিরোধ আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানে সহযোগিতা করছেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে অনেক সময় তারা সরকারি সেবা ও আইনি সহায়তা থেকে পিছিয়ে পড়েন। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব মানুষের কাছে সরকারি সেবা ও নাগরিক অধিকার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি প্যারালিগ্যালদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
ভোরের আকাশ/রই