মানিকগঞ্জে ওজন স্কেলের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলি এলাকায় স্থাপিত ওজন স্কেলের নয়াকান্দি এলাকার অস্থায়ী কার্যালয় গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ট্রাকচালক ও শ্রমিকেরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে হেমায়েতপুর-সিংগাইর মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের নয়াকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জ থেকে সিংগাইরগামী একটি মালবাহী ট্রাক থামাতে সিগন্যাল দেয় স্কেল কর্তৃপক্ষ। তারা ওই ট্রাকের চালান দেখতে চান। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে ট্রাকচালক ইউনুসকে বেদম মারপিট করা হয়। এই ঘটনা ট্রাক মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ট্রাক দিয়ে ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেয়।
এবিষয়ে মারধরের শিকার ট্রাকচালক ইউনুস আলী বলেন, ট্রাকে পণ্য নিয়ে সিংগাইর যাওয়ার পথে নয়াকান্দিতে গাড়ি থামিয়ে টাকা দাবি করা হয়। আমার আগের গাড়ি থেকেও ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি টাকা না দেওয়ায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলি হয়ে হেমায়েতপুর ঘুরে সিংগাইর যেতে বলা হয়। এর প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করে।
এবিষয়ে অস্থায়ী স্কেলের সহকারী রানা বলেন, ওই ট্রাকচালকের কাছে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি খারাপ ব্যবহার করেন। তাকে কোন মারধোর করা হয়নি।
মানিকগঞ্জ জেলা ট্রাক ইউনিয়নের সভাপতি একেএম মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নের একজন ট্রাক চালককে স্কেল কর্তৃপক্ষ বেদম মারধর করে। সে এখন মানিকগঞ্জ ২৫০ টাকা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ভাঙচুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ ট্রাকের ক্ষেত্রে ওজন পরিমাপ প্রযোজ্য নয়। তদুপরি স্কেল কর্তৃপক্ষ গাড়ি চালান এবং গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চায় এবং হয়রানি করে। এমনকি মারপিট করে। সেই কারণে শ্রমিকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে নয়কান্দির ওজন স্কেলের অস্থায়ী কার্যালয় গুড়িয়ে দেয়।
এদিকে বাথুলি ওজন স্কেলের ঠিকাদারের প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম বলেন, এখানে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি করা হয় না। সরকারি নিয়ম মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে স্কেল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/রই