ফেনীর সড়ক-মহাসড়কে দেড় মাসে মৃত্যু ১৮, আহত অর্ধশতাধিক

ফেনীর সড়ক-মহাসড়কে বেড়েই চলছে মৃত্যুর মিছিল। গত দেড় মাসে বিভিন্ন সড়কে ১২ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নারী, বৃদ্ধসহ ১৮ জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ হাট ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিন খোকা (৬০) তার ছেলেকে দেখতে ছাগলনাইয়ার মীর্জার বাজার মাদ্রাসায় যান গত বুধবার সকালে। কিন্তু ছেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না তার। পাশের সড়ক থেকে মূল সড়কে ওঠার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি। একই দিন দুপুরে সফি উল্যাহ (৭২) নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারান মহাসড়কের খাইয়ারা এলাকায়। এর আগে গত শনিবার রাতে ফুলগাজীতে অসুস্থ আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করে বাড়ি ফিরছিলেন উত্তর ধর্মপুর এলাকার প্রবাসী নুরের ছাপা মজুমদার সোহেলের স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা ও মেয়ে ওয়াহিদা সুলতানা জুহা। তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি গাইন বাড়ি এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী পিকআপ চাপায় মা-মেয়েসহ প্রাণ হারান অটোরিকশাচালক মো. কাউছার। গত এক মাসে ফেনী সদরের পাঁচগাছিয়া, মহাসড়কের ভাঙ্গা তাকিয়াসহ বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে এক ডজন।
এ ছাড়া ৩০ মে দাগনভূঞার দাসপাড়া রোডের মাথায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ হারান দাগনভূঞা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জোনায়েদ আহমেদ। এর আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুহুরীগঞ্জে ট্রাকচাপায় মারা যান দুই বন্ধু শাওন ও জিসান। বাইক চালিয়ে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী বেড়ানো শেষে ফেনী ফিরছিলেন তারা। এভাবে গত দেড় মাসে ১২টি ছোট-বড় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী ও পথচারী। হাইওয়ে পুলিশের মতে, ঘুম চোখে চালকদের গাড়ি চালনা, দূরপাল্লার গাড়িতে একজন চালকের দায়িত্ব পালন, বেপরোয়া ঘুম চোখে চালকদের গাড়ি চালনা, দূরপাল্লার গাড়িতে একজন চালকের দায়িত্ব পালন, বেপরোয়া গতি, প্রতিযোগিতার মনোভাব, ঝুঁকিপূর্ণ অতিক্রম, গাড়িতে ফিটনেস না থাকা, অতিরিক্ত মাল বহনে নিয়ন্ত্রণ না রাখা-এসব কারণে ঘটেছে দুর্ঘটনা গতি, প্রতিযোগিতার মনোভাব, ঝুঁকিপূর্ণ অতিক্রম, গাড়িতে ফিটনেস না থাকা, অতিরিক্ত মাল বহনে নিয়ন্ত্রণ না রাখা- এসব কারণে ঘটেছে দুর্ঘটনা। এর বাইরে বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কে অদক্ষ সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের গাড়ি চালনা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো, অপরিকল্পিত ও স্থানীয়ভাবে তৈরি করা ইউটার্ন ব্যবহারের ফলেও দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
মহাসড়কের ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেছেন, 'প্রতি মুহূর্তে চালকদের সতর্ক করছি আমরা। উদ্বুদ্ধ করছি এবং ক্ষেত্রবিশেষে জরিমানাও করছি। অনেক চালককে মামলা দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবু অনেকটা নিয়মিত ঘটে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা।'
'আমরা হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত কাজ করছি। তবে সড়ক আইন না মানলে এবং মহাসড়কের পাশে সাইনগুলোতে যেসব নির্দেশনা দেওয়া থাকে, সেগুলো না মানলে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে' বলে মনে করেন তিনি।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহরিয়ারের ভাষ্য, 'এখানে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী আসেন। তাদের মধ্যে যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়, তাদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর যারা বেশি আহত হন, তাদের ঢাকা অথবা চট্টগ্রামে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।' গত দেড় মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান এই চিকিৎসক।
এদিকে পরশুরাম প্রেস ক্লাবের সহযোগিতায় উপজেলার পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মাঠে কাজ করছেন পরশুরাম মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডে গিয়ে পথসভা করে পুলিশ।
ভোরের আকাশ/এনউব