শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মা-মেয়ে দুজনেই ক্যান্সার আক্রান্ত, বাঁচার আকুতি

রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজিবপুর গ্রামের ছোট্ট একটি টিনের ঘরে এখন নীরব কান্না আর দীর্ঘশ্বাসের বাস। একই বিছানায় কাতরাচ্ছেন মা ও মেয়ে। 

একজন জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত, অন্যজন বয়সের আগেই মৃত্যুভয়ের সঙ্গে লড়ছে। একই পরিবারের মা-মেয়ে দুজনেই আক্রান্ত হয়েছেন মরণব্যাধি জরায়ু ক্যান্সারে। আর সেই অসহায় লড়াইয়ে দিশেহারা পুরো পরিবার।

মা শেফালী বেগম ও স্কুলপড়ুয়া মেয়ে শাহী ফারজানা মিমি দুজনের জীবনই এখন অনিশ্চয়তার মুখে। অভাবের সংসারে এমন ভয়াবহ বাস্তবতা যেন এক নির্মম দুঃস্বপ্ন হয়ে নেমে এসেছে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মিমির বাবা। ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ড্রাইভারের চাকরি করে কোনোভাবে চলছিল সংসার। কিন্তু দুই বছর আগে স্ত্রী শেফালী বেগমের শরীরে ধরা পড়ে জরায়ু ক্যান্সার। 

স্ত্রীকে বাঁচাতে চিকিৎসার পেছনে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে সহায়-সম্বল, এমনকি বসতভিটাও। কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন তাদের পিছু ছাড়েনি। দুই বছর না পেরোতেই মেয়ে শাহী ফারজানা মিমির শরীরেও ধরা পড়ে একই রোগ।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্যান্সারের পাশাপাশি মিমির কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরীরে স্বাভাবিকভাবে রক্ত উৎপাদন না হওয়ায় নিয়মিত রক্ত দিতে হচ্ছে তাকে।

মিমির বাবা জানান, প্রতি মাসে চার থেকে পাঁচটি পরীক্ষা করাতে হয়। শুধু পরীক্ষার খরচ লাগে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। ওষুধ, রক্ত ও অন্যান্য চিকিৎসা মিলিয়ে ব্যয় বহন করা এখন তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে প্রায় ২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শেফালী বেগমের ক্যান্সার দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। অন্যদিকে মেয়ে মিমির রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় দ্রুত উন্নত চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এজন্য প্রয়োজন অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

যেখানে একজনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করাই কঠিন, সেখানে মা-মেয়ে দুজনের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া পরিবারটির জন্য এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেফালী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা গরিব মানুষ। মেয়েটাকেও আমার মতো কষ্ট করতে দেখলে বুক ফেটে যায়। সমাজের মানুষ যদি একটু সাহায্য করেন, তাহলে হয়তো আমরা বাঁচতে পারবো।

মিমি বলেন, আমার মাথা ব্যাথা করে পা ব্যাথা করে সব সময় জ্বর আসে। তাই স্কুলেও যেতে পারি না সব সময়। আর ডাক্তার আমাকে সব সময় হাসি খুশি থাকতে বলেছে কোনো চিন্তা ভাবনা যেন না করি।

এলাকাবাসীরা বলছেন, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষ এগিয়ে এলে মা-মেয়ে দুজনের জীবন রক্ষা সম্ভব। তারা সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভায় স্যানিটেশন প্রকল্পের উদ্বোধন

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ভোরের আকাশকে বলেন, সরকার ক্যান্সারসহ বেশ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। আবেদন করলে সরকারি সহায়তার আওতায় ৫০ হাজার টাকা অনুদান পাওয়া সম্ভব বলেও জানান তিনি।

বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে দিশেহারা পরিবারটি সমাজের সহৃদয় মানুষদের সহযোগিতা কামনা করেছে। সামান্য সহায়তাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একটি পরিবারের হারিয়ে যাওয়া হাসি, বাঁচিয়ে দিতে পারে দুটি জীবন।

ভোরের আকাশ/ র.ই

ক্যান্সারে আক্রান্তফারজানা মিমি

শেয়ার করুন: