অনলাইনে ৪–৫ মিনিটেই শেষ ট্রেনের টিকিট, অডিটে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রেলের অনলাইন টিকিট সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সিলেট উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা ও পারাবত এক্সপ্রেসে ঢাকা এবং পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম যেতে অনলাইনে টিকিটের জন্য অপেক্ষায় থাকেন যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে টিকিট ছাড়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমন বাস্তবতায় রেলের ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের আইটি অডিটে। অডিটে দেখা গেছে, সাধারণ যাত্রীদের জন্য টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার ১ থেকে ৫ দিন আগেই দেশের যেকোনো রুটের টিকিট অবৈধভাবে ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। সিলেট স্টেশনে দায়িত্বরত ভেন্ডর প্রতিনিধির অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডে এমন সুযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের সঙ্গে চুক্তি করে। তবে টিকিট প্রাপ্তি সহজ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি—এমন অভিযোগ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, সহজের কর্মীদের দায়িত্ব ছিল হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ। টিকিট বিক্রি, আসন সংরক্ষণ, কোটা সমন্বয় কিংবা টিকিট ব্লক ও রিলিজের কাজে তাদের যুক্ত থাকার কথা নয়।
তবে অডিটে চট্টগ্রাম ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ই-টিকেটিং ড্যাশবোর্ডে ছয়টি সক্রিয় ইউজারের তালিকা পাওয়া গেছে, যা সহজ ডট কমের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্টেশনের প্রায় ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট সহজের কর্মীরা পরিচালনা করছেন বলেও অডিটে উঠে এসেছে।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ই-টিকিটিং সিস্টেমটি আগের মতো কালোবাজারি ব্যবস্থার নামান্তর হয়ে যাচ্ছে কি না, তার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। রেলওয়ে মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম লোকবল দিয়ে অভ্যন্তরীণ মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে অনলাইনে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমানের। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন। মামলার এজাহারে ট্রেনের টিকিট নিয়ে কালোবাজারি ও মজুদদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি চক্র বিপুলসংখ্যক টিকিট সংগ্রহ করে নেয়। পরে সেসব টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করা হয়। টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হন বিকল্প পথে যাতায়াত করতে। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রির প্রস্তাবও পান।
ভোরের আকাশ/আ.র