মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অভিযানে চিলমারীর তিন প্রধানের এমপিও স্থগিত

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় তিনটি মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, স্বাক্ষর জাল ও ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠান প্রধানের এমপিও (বেতন-ভাতা) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নিয়োগের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত হওয়া তিন কর্মচারীর এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজারভিটা ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক, কুটিরগ্রাম এম এইচ বালিকা মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক এবং চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় ল্যাব সহকারী (পদার্থ) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে নতুন এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন পাঠানোর সময় মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধির নামে জাল চিঠি তৈরি, ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন, ফলাফল শিট প্রস্তুত এবং প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে আবেদন পাঠানো হয়।
বিষয়টি তদন্তে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তিন কর্মচারীর এমপিও বাতিলের সুপারিশ করে। পাশাপাশি জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট তিন মাদ্রাসা প্রধানের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
অভিযুক্ত তিন প্রতিষ্ঠান প্রধান হলেন—রাজারভিটা ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম, কুটিরগ্রাম এম এইচ বালিকা মাদ্রাসার সুপার মো. মাহফুজার রহমান খন্দকার এবং চিলমারী সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. নাজমুল হক।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই অনুমোদন কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠান প্রধান। তাঁদের দাবি, সব ধরনের সরকারি বিধি মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অধিদপ্তরের চিঠির যথাযথ জবাবও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, চিলমারী উপজেলার আরও কয়েকটি মাদ্রাসা, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নথিপত্র যাচাই করা হলে অনিয়ম ও জালিয়াতির আরও ঘটনা সামনে আসতে পারে।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সরকারি নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের জালিয়াতি, অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে চিলমারীর শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ