মাদক প্রতিরোধে ধূমপান নিয়ন্ত্রণের আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর

ধূমপান থেকেই ধীরে ধীরে মানুষ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মাদক প্রতিরোধে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রকাশ্যে ধূমপানের ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আইনটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। অনেককে মোটরসাইকেল চালানোর সময় ধূমপান করতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ রাস্তার পাশে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। আইন অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ।
তিনি বলেন, প্রকাশ্যে ধূমপানের জন্য ৫০, ১০০ বা ২০০ টাকা জরিমানা করা হলে মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে ধূমপান যে আইনত দণ্ডনীয়, সে ধারণাও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে।
মাদক প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এসব কমিটিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো বাল্যবিবাহের প্রবণতা রয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ২০ বছর বয়সের আগে সন্তান না নেওয়ার বিষয়ে তরুণ-তরুণীদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এতে মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে ও শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে।
জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারদলীয় হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সাদিক রিয়াজ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচিসহ জেলার ১৩ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/জেআ