ঈদের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় সবাইকে হারিয়ে নির্বাক রহমত

ইচ্ছে ছিল বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঈদ করবে রহমত। সকালে তাদের সঙ্গে কথাও হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে সে জানতে পারে—তার বাবা, মা ও ভাই কেউ আর বেঁচে নেই। এরপর থেকে কান্না ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই ১০ বছরের শিশু রহমতের মুখে।
গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন রহমতের বাবা মো. সোহাগ (৩৭), মা মোছা. খাদিজা খাতুন (৩৪) এবং ছোট ভাই আরমান (৮)।
স্থানীয় কোকরাকাঠী দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রহমত নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। তার দাদা-দাদি কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। এখন আপন বলতে রয়েছে শুধু চাচা মো. রুবেল।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহীসহ চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়।
নিহত সোহাগের ভাই মো. রুবেল বলেন, “আমার ভাই, ভাবী ও ছোট ভাতিজা ঢাকা থেকে সকাল ১০টার গাড়িতে পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। দুপুরে একসঙ্গে ভাত খাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুরেই শুনতে পাই তারা কেউ বেঁচে নেই। সবাই গোপালগঞ্জের সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমার ভাতিজা এতিম হয়ে গেল।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম বলেন, “সোহাগ, তার স্ত্রী খাদিজা ও ছেলে আরমান একই পরিবারের সদস্য। দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
নাজিরপুর থানার ওসি তারিকুল ইসলাম জানান, গোপালগঞ্জ থেকে খবর পাওয়ার পর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।
ভোরের আকাশ/এম