চট্টগ্রামে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু
বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন-সড়ক অবরোধ, পুলিশের গাড়িতে হামলা

চট্টগ্রাম কক্সবাজার হাইওয়ে সড়কে সাতকানিয়া কেরানি হাটের আগে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি বাসে আগুন দিয়েছে এবং সড়ক অবরোধ করেছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের কাজে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। অথচ পুলিশের গাড়িতে হামলা এবং ফায়ার সার্ভিসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যদি অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ কিংবা উদ্ধারকাজে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনায় রূপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার, জরুরি সেবা প্রদান এবং সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ অবস্থায় দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ফায়ার সার্ভিসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।
একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-মেয়ের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম ১৫, আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী এবং জেলা পুলিশ সুপার মো, মাসুদ আলম।
শোকের মুহূর্তে সংযম, মানবিকতা ও আইন মেনে চলাই হোক সবার অঙ্গীকার। দুর্ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে যেন নতুন করে কোনো দুর্ঘটনা, সহিংসতা কিংবা মানুষের সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা না ঘটে।
ভোরের আকাশ/ইউএম