কেশবপুরে ব্যাসডাঙ্গা খাল খননে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ, তদন্ত দাবি

যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্যাসডাঙ্গা খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বরাদ্দের বড় অংশ আত্মসাতের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কয়েকজন সদস্য।
রোববার (২ আগস্ট) দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ব্যাসডাঙ্গা খালের প্রায় ৪ কিলোমিটার খননের জন্য ৭৭ লাখ ২১ হাজার ১১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান স্থানীয় মহিলা সদস্য ও উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা নাজমা খাতুন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন না করেই ২২ লাখ ৭২ হাজার ৪৪৩ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে বেকু (খননযন্ত্র) চালককে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং শ্রমিকদের মজুরি বাবদ প্রায় আড়াই লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কাজ অসম্পূর্ণ রেখে অবশিষ্ট ৫৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৮ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প কমিটির সদস্য আজিজুর রহমান আজিজ, মাস্টার রেজাউদ্দৌলা নিজাম ও বাবর আলী অভিযোগ করেন, প্রকল্পের অর্থের বড় অংশ প্রকল্প চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, খননকাজে নিয়োজিত বেকু চালক রমজান গাজী জানান, খাল খননের জন্য তার সঙ্গে ৬ লাখ ৫১ হাজার টাকায় চুক্তি হলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বাকি টাকা চাইলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প চেয়ারম্যান নাজমা খাতুন বলেন, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী খাল খননের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসতিয়াক হোসেন বলেন, প্রকল্প অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। তবে খালে অতিরিক্ত পানি থাকায় অবশিষ্ট অংশ খনন করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রেকসোনা খাতুন বলেন, ব্যাসডাঙ্গা খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ