প্রসূতি মায়েদের আস্থা শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিনে পাঁচ নবজাতকের জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনের জন্ম হয়েছে স্বাভাবিকপ্রসবের মাধ্যমে, অন্য তিনজনের জন্ম হয়েছে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারে। একদিনে পাঁচ শিশুর আগমনে আনন্দের উপলক্ষতৈরি হয়েছে পরিবারগুলোর মধ্যে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতিসেবার কার্যক্রমও উঠে এসেছেআলোচনায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন শেরপুর উপজেলার শালফা গ্রামের সাজু মিয়ার স্ত্রীউর্মি খাতুন (২১) ও মহিপুর জামতলা গ্রামের খুশি আক্তার (২০)। অন্যদিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদেওয়া তিন প্রসূতি হলেন, বগুড়ার ধুনট উপজেলার ফকিরহাট এলাকার রবিউল ইসলামের স্ত্রী জলি খাতুন (২৬), শেরপুরউপজেলার হোসেনবাদ গ্রামের চাঁদিনী খাতুন (৩০) এবং খামারকান্দি গ্রামের আবু তালেবের স্ত্রী নার্গিস বেগম (২৫)।
হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনুসূয়া রায় তিন প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন।অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মমিনুল ইসলাম। অস্ত্রোপচার ও প্রসূতিদের সেবায় স্টাফ নার্সরাও সহযোগিতা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে , শুধু একদিনে পাঁচ নবজাতকের জন্মই নয়, প্রসূতিসেবায় নিয়মিত কার্যক্রমও পরিচালনাকরছে প্রতিষ্ঠানটি। গত অক্টোবর মাসে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মহয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সেবা স্থানীয় গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগবাড়াতে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করছে।
হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনুসূয়া রায় এর সাথে কথা বলে জানা যায়, "গত তিন বছর ধরেএখানে প্রসূতিদের সেবা দিয়ে আসছি। প্রতিদিন প্রসূতি মায়েদের বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী নরমাল ওসিজারিয়ান ডেলিভারি করানো হচ্ছে। শুধু প্রসূতি সেবায় অপারেশন থিয়েটারটি ব্যবহৃত হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকিও খুব কম।"
উল্লেখ্য গত ১৮ এপ্রিল সরকারি স্বাস্থ্যখাতে টেকসই উন্নয়ন ও সেবার মানোন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স 'হেলথ সিস্টেম ট্রেন্ডিং’ ক্যাটাগরিতে দেশসেরা শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তারপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সেবারমান ও চিকিৎসা সেবা উন্নয়নে ব্যাপক চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিকপ্রসবের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসূতিদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০টি বাচ্চার জন্ম হয় এখানে। একদিনে পাঁচ নবজাতকের জন্ম আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। এ সাফল্য চিকিৎসক, নার্স ওস্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।”
ভোরের আকাশ/সু.পা