শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরগঞ্জে গ্রামের মাটিতে বিদেশি আঙুরের বাম্পার ফলন

রিফাতুন্নবী রিফাত, গাইবান্ধা

প্রকাশ : ১ জুন ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ছিল আঙুর। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই ফলের চাষ কল্পনাতেও আনতেন না অনেকেই। 

অথচ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এক কলেজ শিক্ষক সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন। নিজের শখ আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এক আঙুর বাগান।

আর এখন সেই বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ, গোলাপি ও জাম রঙের আঙুর। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন বাগানটি দেখতে।

জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক রাজা পেশায় কলেজ শিক্ষক হলেও মনটা পড়ে থাকে কৃষিতে। কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির পাশে ছোট্ট একটি জমিতে শুরু করেন আঙুর চাষ। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে অনেকে অবাক হলেও ধীরে ধীরে তার সেই উদ্যোগই এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

মাত্র ৭ শতাংশ জমিতে গড়ে তোলা ‘কৃষিবিদ আঙুর বাগান’ এ রয়েছে বাইকুনুর, গ্রিন লং, ভ্যালেজ, জয় সিডলেস, ডিকসন, ট্রান্সফিগারেশন ও রেবেকাসহ নানা জাতের প্রায় ৫০টি আঙুর গাছ। চার বছর আগে লাগানো গাছগুলোতে এবার মিলেছে কাঙ্ক্ষিত বাম্পার ফলন।

তার এই বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে মাচার নিচে ঝুলে থাকা বড় বড় আঙুরের থোকা। কোনো কোনো থোকার ওজন প্রায় এক কেজি। সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করায় এসব আঙুরের স্বাদও বেশ মিষ্টি ও রসালো বলে জানান উদ্যোক্তা।

ভোরের আকাশের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় কলেজ শিক্ষক আঙুর চাষী এমদাদুল হক রাজার। তিনি বলেন, শুরুতে শুধু শখ থেকেই আঙুর চাষ শুরু করি। পরে যখন গাছে ফল আসতে শুরু করল, তখন আরও উৎসাহ পাই। বর্তমানে আমার বাগানে ২৬ জাতের আঙুর রয়েছে। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বছর বাগান থেকে আড়াই থেকে তিন মণ আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন এমদাদুল হক রাজা। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আঙুরের চারা উৎপাদনও শুরু করেছেন তিনি।

সড়কের পাশেই বাগান হওয়ায় প্রতিদিন নানা বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ আঙুর চাষ সম্পর্কে জানছেন উদ্যোক্তার কাছ থেকে।

স্থানীয় যুবক তৌফিক বলেন, গ্রামের মাটিতে এমন বিদেশি ফলের চাষ তারা আগে কখনো দেখেননি। নিজেদের এলাকাতেই এত সুন্দর ও সুস্বাদু আঙুর উৎপাদন হওয়ায় তারা বেশ আনন্দিত।

আরেক যুবক রাসেল মিয়া বলেন, আমার এলাকায় আঙুর চাষ করেছে রাজা ভাই। তার বাগানটি বেশ ভালো লেগেছে আমাকে। আঙুর বেশ কয়েকটি খেয়ে দেখলাম, বেশ ভালো পেলাম। আমারও ইচ্ছা আছে এরকম আঙুর বাগান করার।

আরও পড়ুন

জামালপুরে ভ্যান চালকের মরদেহ উদ্ধার

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী ভোরের আকাশকে বলেন, 'সুন্দরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী। কেউ আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।'

শখ, শ্রম আর অদম্য আগ্রহ থাকলে গ্রামবাংলার মাটিতেও যে বিদেশি ফলের সফল চাষ সম্ভব সুন্দরগঞ্জের এই আঙুর বাগান যেন তারই জীবন্ত প্রমাণ।

ভোরের আকাশ/ র.ই
 

সুন্দরগঞ্জরাসেল মিয়া

শেয়ার করুন: