শিরোনাম
বিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রীবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন বোর্ড গঠনের উদ্যোগবাংলাদেশে হামের প্রকোপ ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়লেও কমেছে শিক্ষার্থীবিদেশি ঋণ কমেছে ৪২.৩৪%, ছয় উন্নয়ন সহযোগীর প্রতিশ্রুতি নেইকক্সবাজারে আগুন: ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, এখনো নিখোঁজ ১অনলাইন টিকিটের কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণ কঠিন: রেলমন্ত্রীনিপ্পন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুরে পাঁচ উপজেলায় ৬ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

প্রকাশ : ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- সংগৃহীত
ছবি- সংগৃহীত

দিনাজপুরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর জেলার পাঁচটি উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধে হানাদার বাহিনীর কবল  থেকে দখলমুক্ত হয়েছিল। মুক্ত বাতাসে উড়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ১৯৭১-সালের ৬ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর দখল মুক্ত হওয়া দিনাজপুর জেলার পাঁচটি উপজেলা হচ্ছে- বীরগঞ্জ, বোচাগঞ্জ, কাহারোল বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ। এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিনটি জেলার পাঁচ উপজেলায় হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন।

বীরগঞ্জ: মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ স্মৃতি সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ডা.মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, দিনাজপুরের  বীরগঞ্জ উপজেলায় ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। ওইদিন হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা লড়াই করে বীরগঞ্জ এলাকাকে শক্রমুক্ত করেছিল। এই সংগ্রামে মুক্তি বাহিনী এবং মিত্র বাহিনীর যোদ্ধারা অংশ নিয়েছিলেন।পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও জেলা ৩ ডিসেম্বর শক্রমুক্ত হওয়ার পর  হানাদার বাহিনী সৈয়দপুর অভিমুখে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে। হানাদার বাহিনী বীরগঞ্জ থেকে পিছু হটে বীরগঞ্জ-কাহারোল উপজেলা সীমান্তে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে ভাতগাঁও ব্রিজের পূর্ব প্রান্তে অবস্থান নেয়। ৬ ডিসেম্বর সকালে বীরগঞ্জের অলিগলিতে মুক্ত বাতাসে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

বোচাগঞ্জ: দিনাজপুর-২ আসনের বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী পিনাক চৌধুরী জানান, তাঁর মরহুম পিতা এ এফ এম রিয়াজুল হক চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের মুখে  হানাদার বাহিনী বোচাগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিকামী জনসাধারণের অংশগ্রহণে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনে বোচাগঞ্জ উপজেলা হানাদার বাহিনীর দখল মুক্ত ঘোষণা করেছিলেন। এদিন সম্মুখ যুদ্ধে ধনতলা গ্রামের আব্দুর বারেক ও এনামুল হক, কাকদুয়ার গ্রামের চিনিরাম দেবশর্মা, বিহাগাঁও গ্রামের কাশেম আলী, রনগাঁও ইউনিয়নের ধনঞ্জয়পুর গ্রামের গুলিয়া বাংরু, বনকোট চুনিয়াপাড়া গ্রামের বীর্যমোহন রায়সহ মোট ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইজনকে হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

বিরামপুর: বিরামপুর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাফফর হোসেন জানান,  ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী  হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে বিরামপুর উপজেলা মুক্ত ঘোষণা  করেন। হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ৪ ডিসেম্বর বিরামপুর পাইলট স্কুলের সম্মুখে ও ঘাটপাড় ব্রিজে প্রচণ্ড শেলিং করে ভাইগড় গ্রামের সীমান্ত দিয়ে ভারতের তীরমহনিতে গোলা নিক্ষেপ করে। সম্মুখ যুদ্ধে কেটরা হাটে ১৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ৭ পাকিস্তানি সেনা নিহত ও শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা আহত এবং  পঙ্গুত্ব বরণ করেন। পঙ্গুত্ব বরণ করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিন ভারতে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছিল।

নবাবগঞ্জ: মুক্তিযুদ্ধ ও শহীদ স্মৃতি সংগ্রহ কমিটির নির্বাহী সদস্য মাসউদ রানা জানান, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্ত ঘোষণা করেন। এদিন মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে পিছু হটতে থাকে হানাদার বাহিনী। একপর্যায়ে উপজেলার ভাদুরিয়া নামক স্থানে হানাদার বাহিনীর সাথে মিত্রবাহিনীর তুমুল লড়াই হয়। নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে পিছুহটে পাশ্ববর্তী ঘোড়াঘাট এলাকায় আশ্রয় নেয় হানাদার বাহিনী। ফলে ওইদি নবাবগঞ্জ উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়।

কাহারোল: উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোরে স্থানীয় মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর আক্রমনের মুখে কাহারোল উপজেলা হানাদার  মুক্ত হয়। ওইদিন সকালে কাহারোল বাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

ভোরের আকাশ/এসএইচ

দিনাজপুরহানাদারমুক্ত দিবস

শেয়ার করুন: