শিরোনাম
রাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবারগাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজটরোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপচাকরি থেকে বরখাস্ত সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ ৭ কর্মকর্তারাজধানীবাসীর জন্য সুখবর, ৬ রুটে একক কোম্পানির বাস চালু হচ্ছে রবিবারগাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজটরোববার নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরাফ্যাসিবাদ উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক ঐক্যই বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসুস্পষ্ট লঘুচাপ রূপ নিল নিম্নচাপেগাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণাআশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ারশেল নিক্ষেপচাকরি থেকে বরখাস্ত সাবেক ডিবিপ্রধান হারুনসহ ৭ কর্মকর্তা

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে মাছ শিকারের অভিযোগ

সামরাজ ঘাটে শতাধিক ট্রলার, পচা ইলিশে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি- ভোরের আকাশ
ছবি- ভোরের আকাশ

ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ মৎস্যঘাটে ফিরেছে শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার। এসব ট্রলারে এসেছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। তবে মাছের বড় একটি অংশ পচে যাওয়ায় ঘাটজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। পচা ইলিশ ফেলে দেওয়া হচ্ছে সামরাজ খালে। আর ফেলে দেওয়া মাছ কুড়িয়ে নিতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।

অভিযোগ উঠেছে, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিষেধাজ্ঞা চলাকালে গভীর সাগরে অবস্থান করে ইলিশ শিকার করেছেন একাধিক ট্রলারের জেলেরা। দীর্ঘদিন বরফের মধ্যে সংরক্ষণ করায় এসব মাছের বড় একটি অংশ পচে গেছে। এ ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে মাছ শিকার বন্ধে নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে সরেজমিনে সামরাজ মৎস্যঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক ইলিশবোঝাই ট্রলার ঘাটে ভিড়ছে। ট্রলার থেকে ঝুড়িভর্তি মাছ নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে আড়তে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মাছ বেচাকেনা। কিছু মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে ঢাকায় পাঠানোর জন্য ট্রাকে তোলা হচ্ছে।

তবে এসব মাছের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ পচে যাওয়ায় ঘাটজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অসহনীয় দুর্গন্ধ। পচা মাছের স্তূপ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন সাধারণ ক্রেতারা। অন্যদিকে, মাছ বাছাই, বিক্রি ও পরিবহনে ব্যস্ত সময় পার করেন আড়তদার ও পাইকাররা। পচে যাওয়া মাছের একটি অংশ জেলেরা সামরাজ খালে ফেলে দিচ্ছেন। সেখানে ফেলে দেওয়া মাছ কুড়িয়ে নিতে দেখা যায় অনেককে।

ট্রলারভর্তি ইলিশের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাগর থেকে ফেরা এক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে ৮ অক্টোবরের আগেই তাঁরা বরফ, জ্বালানি তেল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে গভীর সাগরে মাছ শিকারে যান। এরপর নিষেধাজ্ঞার পুরো ২২ দিন সাগরে অবস্থান করে মাছ ধরেন। দীর্ঘ সময় বরফের মধ্যে সংরক্ষণ করায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মাছ পচে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সমুদ্রগামী ট্রলারের মাঝি নুর মোহাম্মদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে সামরাজ মৎস্যঘাটের কয়েকজন আড়তদার দাবি করেন, এসব মাছ সাগর থেকে ধরা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনেও জেলেরা সেখানে মাছ শিকার করেছেন।

সামরাজ মৎস্যঘাটের সভাপতি তারেক আজিজ পাটোয়ারী বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে জেলেরা সাগরে গিয়ে মাছ শিকার করেছেন। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন ছিল। চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এ বিষয়ে তাঁকে একজন অবগত করেছেন।

আরও পড়ুন

চমেসাসের নতুন নেতৃত্বে শহিদ ও হাসনাত

অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ নিয়ে ট্রলারগুলোর ঘাটে ফেরার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, কিছু অসাধু জেলে গোপনে সমুদ্রে যেতে পারেন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সমুদ্রে নজরদারির দায়িত্ব পালন করে কোস্ট গার্ড।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নদী ও সমুদ্রে ইলিশসহ নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ শিকারের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভোরের আকাশ/সু.পা

শেয়ার করুন: