স্ত্রীর মামলায় বরগুনা পৌর প্রকৌশলীর দুই বছরের কারাদণ্ড

স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক ও নির্যাতন মামলায় বরগুনা পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম শিপন (৪৫) কে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তিনি পৌরসভার বিদ্যুৎ ও তত্ত্বাবধায়ক (পানি) শাখায় দায়িত্বে আছেন।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকালে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রনজুয়ারা সিপু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথিতে জানা যায়, ২০১৪ সালে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে সাইফুল ইসলাম শিপনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন তিনি। প্রায় চার বছর আগে ঘর নির্মাণের জন্য শ্বশুরের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আনতে স্ত্রীকে বাধ্য করেন। পরে গত বছর আবারও ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ভুক্তভোগী এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এরপর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল ওয়াসী মতিন ভোরের আকাশ-কে বলেন, এই রায় আইনগতভাবে সঠিক হয়নি। বাদী দীর্ঘদিন পিত্রালয়ে বসবাস করছেন, আসামির সঙ্গে কোনো যোগাযোগই নেই। ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে একটি কাল্পনিক মামলা করা হয়েছে। মামলায় শুধুমাত্র বাদী, তার বাবা ও মা-এই তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন, বাইরের কোনো স্বাক্ষী নেয়া হয়নি। আমার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ, তার খালাস পাওয়ার কথা ছিল। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।
অন্যদিকে বিশেষ পিপি রনজুয়ারা সিপু ভোরের আকাশ-কে বলেন, যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ১১(গ) ধারায় বিচারক বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস আসামি সাইফুল ইসলাম শিপনকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ডের রায় দেন। আসামি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন।
ভোরের আকাশ/তা.কা