ডেঙ্গু প্রতিরোধে খাগড়াছড়িতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা। বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা আশপাশে জমে থাকা সামান্য পানিও এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে। তাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নিজেদের ঘরবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি পৌরসভার উদ্যোগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। পরে মুক্তমঞ্চ ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রশাসক সাদিয়া আফরিন কচির সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা পারভীন আক্তার খন্দকারসহ জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা বলেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একার দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখলে মশার প্রজননস্থল কমানো সম্ভব। সম্মিলিত উদ্যোগ ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে সুস্থ ও নিরাপদ নগর গড়ে তোলা সম্ভব।
পৌরসভার এ উদ্যোগের মাধ্যমে শহরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা