রাস্তা খারাপ,তাই বিয়ে হচ্ছে না অনেক তরুন-তরুনীর

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাংন্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের মানুষ যুগের পর যুগ যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক সংকটে ভুগছেন। পশ্চিম বানিয়ারী টু কালীগঞ্জ বাজার এর রাস্তাটি এলাকাবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে উঠেছে। যাতায়াত ব্যবস্থা একেবারে নাজুক হওয়ায় এই গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্হানীয়রা। অচল সড়কের কারনে ভেঙে যাচ্ছে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে, মুমূর্ষু রোগীদেরও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে লাশ বহনের খাটিয়ায় করে এ যেনো এক হৃদয়বিদারক ঘটনা এমনকি বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমে রাস্তার উপরে স্থানীয়রা বাঁশ ও গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচল করেন।
এই কাঁচা মাটির রাস্তাটি নাজিরপুর উপজেলার পশ্চিম বানিয়ারি গ্রাম হয়ে পাশ্ববর্তী চিতলমারী উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারের সঙ্গে সংযোগ হয়েছে। রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই অঞ্চলের মানুষদের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় মাএা অতিরিক্ত।
স্হানীয়রা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সরকারের বিভিন্ন দফতরে ধরনা দিলেও রাস্তাটি সংস্কার বা পাকা হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সহ বিভিন্ন সময়ে স্হানীয়দের কাছে প্রাথীরা ভোট চাইতে আসলেই তাদের একমাএ প্রানের দাবীই থাকে সড়কটি পাকা করনের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা মাটির রাস্তাটি দুর্ভোগে পরিনত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টির পানি ও মাটি মিশে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাঁচা মাটির এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সমতল ভূমির সঙ্গে মিশে গেছে। রাস্তাটি খানাখন্দে ভরে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি আর কাদায় রাস্তাটি চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়ে।বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা নিজেরাই বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে চলাচলের ব্যবস্থা করে।
সমাজ সেবক ও বানিয়ারী গ্রামের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মোঃ ফারুক হোসেন (স্বপন) মোল্লা জানান, রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুসের যাতায়াত। গ্রামবাসী ছাড়াও বানিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,পশ্চিম বানিয়ারী হিলফুল ফুজুল ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যাওয়া-আসা করে। জন্মলগ্ন থেকেই দেখে আসছি, মানুষজন রাস্তার ওপর থাকা হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে যাওয়া আসা করছে।
আমাদের দুর্ভোগ লাঘবে কেউ এগিয়ে আসেননি। এ অঞ্চলে যারা বসবাস করে বিভিন্ন নির্বাচনে তাদের ভোট যখন দরকার পড়ে তখন প্রাথীগন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়ে যায়। কিন্তু নির্বাচনের পরে তাদের দেওয়া ওয়াদা গুলি আর মনে থাকে না।
ফারুক হোসেন স্বপন এক পযায়ে সাংবাদিকদের বলেন ভাই আপনারা তো গত বছরও এসেছিলেন নিউজও করেছিলেন কিন্তু আমাদের ভাগ্য ও রাস্তার ভাগ্যর কোন পরিবর্তন কিন্তু হয়নি। তাই নিউজ করে আর কি হবে বলেন। এই রাস্তার কারনে আমাদের গ্রামে এখন আর কেউ ছেলে মেয়ে বিয়ে ও দিতে চায় না।
স্হানীয় জুয়েল মিয়া বলেন, বর্ষার মৌসুম আসলেই আমাদের চিন্তার কোনো শেষ থাকে না। দিনের পর দিন চিন্তা ও হতাশার মধ্যে কাটাতে হয় আমাদের।
মোঃ ফোরকান নামে অপর যুবক বলেন, এই সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ কমাতে আমাদের বাবা-চাচাদের দেখেছি জনপ্রতিনিধিদের পিছু পিছু ঘুরতে। সবাই আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু রাস্তা করে দিতে কেউ আগাননি।
এ বিষয়ে মাটিভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বানিয়ারি থেকে কালীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত রাস্তা,ল ্টিঁ খুবই খারাপ অবস্থা। বেশ কয়েকবার এলজিইডিতে এই প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছে এখন পর্যন্ত পাস হয়নি। আশা করছি প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তব হতে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, রাস্তাটি আমি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। কাদায় চলাচলে দুর্ভোগ হচ্ছে জনসাধারনের।আগামী এস বি পি প্রকল্পে রাস্তাটি আমাদের অধিদফতরে পরবর্তী টেন্ডারের জন্য আবেদন করছি।
ভোরের আকাশ/এনউব