৪২ লাখ টাকার দোকান নিয়ে মামলা-পাল্টা মামলা
কারাগারে হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের মোতাওয়াল্লী ও তার বাবা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহম্মদ (৪২) ও তার বাবা সাবেক মোতাওয়াল্লী ড. আলমগীর কবির পাটোয়ারীকে (৭০) প্রতারণার মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই বিরোধে দায়ের করা পাল্টা মামলায় বাদী ব্যবসায়ী কবির হোসেন লিটনকেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মুজাহিদুর রহমান পৃথক মামলায় এসব আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন লিটনের দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে সমন জারি করা হয়। নির্ধারিত তারিখে প্রিন্স শাকিল আহম্মদ ও তার বাবা আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে কবির হোসেন লিটন উল্লেখ করেন, হাজীগঞ্জের মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে দোকান কেনার জন্য ৪২ লাখ টাকা দেওয়া হলেও তাকে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। এমনকি টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে বিবাদীরা ৪২ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় গত ৭ জুলাই তিনি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা করেন।
এ মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব এবং বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা।
এদিকে, একই ঘটনায় একই ধারায় গত ২২ জুলাই কবির হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন বড় মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লী প্রিন্স শাকিল আহম্মদ। ওই মামলায় সিরাজুল ইসলাম, মো. শাহ আলম ও মুহাম্মদ রাহমাতুল্লাহকেও আসামি করা হয়।
পাল্টা মামলার অভিযোগে বলা হয়, কবির হোসেন লিটন একজন ঠিকাদার। মকিমাবাদ শপিং সেন্টারে বিভিন্ন নির্মাণকাজ করতে গিয়ে তিনি অন্য আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণা করেছেন এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ মামলাতেও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত সমন জারি করেন। পরে বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কবির হোসেন লিটনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। মামলাগুলোর অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।
ভোরের আকাশ/আ.র