কুষ্টিয়ার থানাপাড়ায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, বাড়ছে মৃত্যু ও আতঙ্ক

কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনমনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গড়াই নদীতীরবর্তী চর থানাপাড়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। গত দুই দিনে এ এলাকায় শিশুসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
কুষ্টিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্যতম জনবহুল এলাকা চর থানাপাড়া। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস এ এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় এলাকাটিতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এলাকার অনেক বাড়িতেই এক বা একাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। আক্রান্তদের কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার অনেকে আর্থিক অসচ্ছলতা কিংবা অন্যান্য কারণে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এর মধ্যে গত দুই দিনে শিশুসহ দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
চর থানাপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে মশার বংশবিস্তার ঘটলেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশা নিধনে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে এলাকাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জমে থাকা আবর্জনা অপসারণ ও মশা নিধনে সমন্বিত কার্যক্রম না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষেরও দাবি, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও মশা নিধনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের এসব উদ্যোগের কার্যকর প্রতিফলন চর থানাপাড়ায় দেখা যাচ্ছে না।
কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চর থানাপাড়ায় দ্রুত মশা নিধন, আবর্জনা অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা