প্রখ্যাত আলেম মাওলানা জায়েদ হোসাইন ফারুকীর দাফন সম্পন্ন

লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় জনপদে দ্বীনের আলো ছড়ানো প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার, বহু গ্রন্থের প্রণেতা ও গবেষক এবং হাজিরহাট হামেদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জায়েদ হোসাইন আল ফারুকীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কমলনগর উপজেলার চর লরেন্স উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র সন্তান মাওলানা জাবের আল ফারুকী। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
মরহুমের জানাজায় লক্ষ্মীপুরের আরেক নক্ষত্র অধ্যক্ষ মাওলানা হারুন আল মাদানী, কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মী, শিক্ষক, আলেম-ওলামা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন।
এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৭৫ বছর। মরহুমের ভাতিজা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা ফিরোজ মাহমুদ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, যে সময়ে উপকূলীয় কমলনগর ও রামগতিসহ পুরো লক্ষ্মীপুরে দ্বীন প্রচার ও ইসলামী শিক্ষার পরিবেশ প্রতিকূল ছিল, সেই কঠিন সময়ে দ্বীনের দাওয়াতি কাজ শুরু করেন মাওলানা জায়েদ হোসাইন ফারুকী। দুর্গম এলাকায় ঘুরে ঘুরে ওয়াজ-মাহফিল ও আল-কোরআনের তাফসীরের মাধ্যমে ঘরে ঘরে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। গবেষণাধর্মী বহু গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে দেশজুড়ে তার বিশেষ খ্যাতি ছিল। একজন আলোকিত শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি হাজার হাজার দ্বীনি শিক্ষার্থী তৈরি করেছেন।
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী এই বরেণ্য আলেমের প্রয়াণে সমগ্র লক্ষ্মীপুর জেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্লাহ, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল খায়ের, উপজেলা জেএসডির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মোতালেব এবং কমলনগর প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মুছা কালিমুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ভোরের আকাশ/ইউএম