বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ দিয়ে সাড়া জাগিয়েছেন ইদ্রিস

গাইবান্ধায় ফসলের মাঠ চষে বেড়িয়ে কৃষকদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী। কৃষকদের মাঝে পরামর্শ দিতে তিনি বেড়িয়ে পড়েন বাড়িতে-বাড়িতে ফসলি জমিতে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষি অফিসে কর্মরত রয়েছেন ইদ্রিস আলী। তিনি কাজ করেন বল্লমঝাড় ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ব্লকটিতে। এই ব্লকটিতে তিনি দীর্ঘদিন থেকে নিরলস প্রচেষ্টায় কৃষকদের কৃষি পরামর্শসহ সরকারি ভাবে প্রণোদনা দিয়ে আসছেন। তার পরিকল্পনায় বহু কৃষক নতুন নতুন ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে বর্তমানে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জনবল সংকটের কারনে তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ১, ২ ও ৩ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ব্লকটিতেও।
বুধবার (১২ নভেম্বর) সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খোলাবাড়ি, নারায়নপুর, ধানঘড়া, কদমেরতলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা গিয়েছে কৃষকদের নিয়ে খণ্ড-খণ্ডভাবে ক্যাম্পেইন করার চিত্র। এ সময় তিনি রোপা আমন খেতে রোগ ও পোকা দমনে পরামর্শ দিচ্ছেন। এ ছাড়া মাইকিং করা হচ্ছে পুরো ইউনিয়ন জুড়ে। এভাবে পরামর্শ দিয়ে সুনাম অর্জন করেছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ ধান ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এ ফসল থেকে পরিবারের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে অধিক পরিমাণ জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এসব খেতে পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেখা দিয়েছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত ভালো ফলন ঘরে তোলার প্রত্যয়ে নিরলস ভাবে মাঠে কাজ করছেন কৃষি বিভাগ।
কথা হয় খোলাবাড়ি এলাকার কৃষক বাবু মিয়ার (৪৫) সঙ্গে তিনি বলেন, এ মৌসুমে যেসব জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ক্ষেতে যেন রোগ-বালাই কিংবা পোকামাকড় আক্রমণ করতে না পারে সে ব্যাপারে ইদ্রিস স্যার আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। এতে করে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।
ঝিনাশ্বর এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান (৪৮) বলেন, আমাদের চাষাবাদে যে কোন সময় রোগ বালাই হলেই ফোন দেয়া হলেই হাজির হন ইদ্রিস স্যার। তার পরামর্শ নিয়ে এ যাবৎ সব ধরনের ফসল চাষ করে সফল হয়েছি।
এসব বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী বলেন, আমি আমার দায়িত্ব থেকে মানুষের পাশে সব সময় রয়েছি। কৃষকরা আমাকে স্মরণ করার আগেই আমি ফসলের মাঠ ঘুরে ঘুরে দেখে তাদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। সপ্তাহের প্রতি রবিবারে কৃষকরা ইউনিয়ন পরিষদে এসে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে পরামর্শ নিয়ে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, যখন ফসলের বড় ধরনের রোগ আক্রমণ দেখা দেন, তখন কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। ঠিক তখনি আমি বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে, হাটবাজারে, বাড়ি বাড়ি ক্যাম্পইন করে এসব রোগ প্রতিরোধে কার্যকারী পদক্ষেপ নিয়ে আসছি। এছাড়াও আমার নিজ উদ্যাগে ৩দিন ব্যাপী অত্র ইউনিয়নে পোকা দমনে সচেতনতার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/জাআ