শতাধিক পরিবার ডেঙ্গু ঝুঁকিতে
খুলনায় পঁচাপানি জমে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া বাড়াচ্ছে

খুলনা মহানগরীর শেরেবাংলা রোডে পুরাতন নির্বাচন অফিস সংলগ্ন ১৭১, আমেনা মঞ্জিলের পশ্চিম দিকে তিন বাড়িওয়ালার প্রায় ১৩/১৪ শতক খালি জায়গা প্রায় ৪০ বছর আগেও কোন ঘর বাড়ি ছিল না।
জায়গাটি মাঝখানে চতুর্দিকের বাড়ীর পিছনের দিক হওয়ায় দীর্ঘদিন কেউ বড় কোনো অভিযোগ করেনি, গত ২০২০ সালে জয়দেব ভৌমিকের এক ভাড়াটিয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। পরে তাদের পরিবার বাসা পাল্টে চলে যায়। এরপর ২০২২ সালেও জয়দেব ভৌমিকের আরও এক ভাড়াটিয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাসা পাল্টে চলে যায়।
জায়গাটি পরিত্যক্তভাবে ফেলে রেখেছে, সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে দূর্গন্ধের সৃষ্টি, জঙ্গলে পূর্ণ, ময়লা পানি আর বৃষ্টির পানি জমে ডেঙ্গু মশার ডিম পাড়ার আবাসস্থল বানিয়ে ফেলেছে। পানি সরে যাওয়ার জায়গা ময়লা আবর্জনায় আটকে আছে। আশেপাশের বাড়ির ভিতর পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি নষ্ট হচ্ছে। নীচতলার ফ্লাটগুলো পানিতে পূর্ণ। মৌখিক অভিযোগ অনেকবার করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় থানার স্মরনাপন্ন হলেও সেখানেও দুই বার শালিসেও সমাধান হয়নি।
আছমা বেগম, নজরুল ইসলাম ও আফরোজা ইয়াসমিন (খুকি) ও পুতুল রায় এই তিন পরিবার অত্যান্ত শক্তিশালী বিধায় কেউ তাদের শালিস করে সমাধান করতে পারেনি। থানায় অভিযোগ করলে ওসি সাহেব উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।
পরিত্যক্তভাবে ফেলে রাখা জায়গায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমে থাকায় বৃষ্টির পানি জমে পঁচে দূর্গন্ধ সৃষ্টি করেছে, সেখানে ডেঙ্গু মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। আশেপাশের প্রায় শতাধিক পরিবারের লোকজন দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর জয়দেব ভৌমিকের দুই ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে জয়দেব ভৌমিক এর বাড়িটি। তার বাউন্ডারি ওয়ালের নীচ দিয়ে পানি ঢুকে ভবনের নিচতলার বাসিন্দাদের দূর্ভোগ সৃষ্টি করছে। বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে, ভাড়াটিয়ারা ডেঙ্গু আতংকে বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে। ভাড়াটিয়া চলে গেলেও বড় ঝুঁকিতে তার নিজের পরিবার।
এছাড়াও আশেপাশের আরও ৭/৮টি বাড়ি এই একই রকম ডেঙ্গু আতংকে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে যাচ্ছে।
অভিযোগকারী জয়দেব ভৌমিক জানান, প্রথমে মৌখিকভাবে অভিযোগ করার পর তাতে কর্ণপাত করেনি, গত ১৬ জুন ২০২৫ তারিখ বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করি। থানায় উভয়পক্ষ বসাবসি হয়, কিন্তু দুই দুইবার করে সংস্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও একবছর পার করেছে। এ বিষয়ে থানায় কয়েক দফা শালিশ হলেও প্রতিকার হয়নি।
পরিবেশ অধিদপ্তরেও অভিযোগ দিলে তারা জানায়, এটা সিটি করপোরেশনের কাজ। এরপর ২৬ নং ওয়ার্ড অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। এবিষয়ে গত ২২ জুলাই খুলনা সিটি করপোরেশনের ২৬ নং ওয়ার্ড অফিসের সচিব বলেন, জয়দেব ভৌমিক এর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।
আমি আমেনা মঞ্জিলের নজরুল ও আসমার সাথে কথা বলেছি। তাদেরকে দ্রুত সমাধান করতে বলা হয়েছে। নাহলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আরও কঠিনভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এসেছি।
জয়দেব ভৌমিক এর প্রতিবেশী খালেক, আব্দুর জব্বার, ও সিদ্দিক জানান, তাদের ঘরেও পানি জমে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেছে। বাড়ি ছেড়ে এখন বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে বাস করছি।
এ বিষয়ে সর্বশেষ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে এবিষয়ে সমাধান চায় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
ভোরের আকাশ/রই