বৃদ্ধ বাবার মৃত্যু ঘিরে রহস্য
আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অসুস্থ বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনে তারই ছোট মেয়েসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন নিহতের বড় মেয়ে। একই সঙ্গে হত্যার আগে ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর প্রায় ৮০ দিন পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তালুক শাহবাজ গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী সরকার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। এ সুযোগে তার ছোট মেয়ে রহিমা বেগম, ভাগ্নিজামাতা হামিদুল ইসলামসহ একটি চক্র চুরি যাওয়া চেকবই ব্যবহার করে ব্যাংকের নলডাঙ্গা শাখায় থাকা তার হিসাব থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আত্মসাতের বিষয়টি গোপন রাখা এবং সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ২০২৩ সালের ১৯ মে রাতে তৈয়ব আলী সরকারকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে দ্রুত মরদেহ দাফন করা হয়। পরবর্তীতে কাফনের কাপড়ে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া এবং ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের তথ্য সামনে এলে নিহতের বড় মেয়ে মোছা. কহিনুর বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় নিহতের ছোট মেয়ে রহিমা বেগম, ভাগ্নিজামাতা হামিদুল ইসলাম, ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার, ব্যাংকের নলডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় নথিভুক্ত হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এ সময় সাদুল্লাপুর থানার উপ-পরিদর্শক রিপন মিয়া, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাদুল্লাপুর থানার উপ-পরিদর্শক রিপন মিয়া জানান, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
তবে মামলায় উত্থাপিত হত্যা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের এজাহারভিত্তিক। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।
ভোরের আকাশ/রই