আদালতে স্বীকারোক্তি
গাজীপুরে অটোরিকশা ছিনতাই করে হত্যার পর মরদেহে চালায় বর্বরতা

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অটোরিকশা চালক অমৃত চন্দ্র সরকার আশিকের অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে নির্জন স্থানে যায় সেলিম মিয়া। এক পর্যায়ে নীরব নির্জন স্থানে নিয়ে অটো চালককে লাঠি দিয়ে আঘাত করে অটো চালক অচেতন হয়ে যায়। সেলিমের পড়নে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। এ সময় তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুম করার উদ্দেশ্যে আশিকের পেট কেটে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এভাবেই গাজীপুরের কালীগঞ্জে অটোরিকশার ছিনতাই করে চালকের মরদেহে বর্বরতা চালায় ঘাতকরা। এঘটনার তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাকৃতরা আদালতে ১৬৪ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আল-আমিন (২৬) রাজধানীর তুরাগ থানার তালটেক গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে, তার দেয়া তথ্যমতে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার ফেটালিয়া গ্রামের গাফফার মিয়া ছেলে সেলিম মিয়া (২২) কে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে রাজধানীর তুরাগ থানার বাদলদি পাকুরিয়া গ্রামের মৃত আজিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৮) এর কাছ থেকে অটোরিকশা উদ্ধার ও গ্রেপ্তার করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই মোঃ রিয়াদুল ইসলাম জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার রাথুরা গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের ছেলে অটোরিকশা চালক অমৃত চন্দ্র সরকার আশিক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুজি করে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে জেলার কালীগঞ্জ থানার মুক্তারপুর গ্রামের শীতলক্ষ্যা নদীর আমির আলীর ঘাট এলাকা থেকে গলায় বেল্ট বাঁধা, পেট ক্ষতবিক্ষত ও নাড়িভূঁড়ি বের হওয়া অবস্থায় অজ্ঞাতনামা লাশ ভেসে উঠে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। লাশের গায়ে থাকা পোশাক ও অবয়ব দেখে নিখোঁজ হওয়া অমৃত চন্দ্র সরকার আশিক মরদেহ নিশ্চিত করে তার স্বজনরা। এঘটনায় ২২ ফেব্রুয়ারি আশিকের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার থানায় মামলা দায়ের করেন। গাজীপুর পুলিশ সুপার আশিক হত্যা মামলাকে গুরুত্বে সাথে নিয়ে হত্যার মুল ঘটনা উদঘাটনে অভিযান ও তদন্তে নামে। তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে তুরাগ থানা এলাকা থেকে আল আমিন (২৬), তার দেয়া তথ্যমতে প্রধান আসামী সেলিম মিয়াকে কালিয়াকৈর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এসআই জানান, গ্রেপ্তার প্রধান আসামী সেলিম মিয়া অটোরিক্সা চালক আশিককে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অটোরিকশাটি ভাড়ায় নেন। এক পর্যায়ে নীরব নির্জন স্থানে নিয়ে অটো চালককে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে অটো চালক অচেতন হয়ে যায়। সেলিমের পড়নে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে। এ সময় তার কাছে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে আশিকের পেট কেটে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। আসামী সেলিম মিয়া ও আল-আমিন ছিনতাই করা অটোরিকশা সাইফুল ইসলামের কাছে ৫২ হাজার টাকা বিক্রি করে। পরে পুলিশ সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিক্সাটি উদ্ধার করে। এঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে তিনজন আসামী দায় স্বীকার ১৬৪ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
ভোরের আকাশ/নি